অ্যাডমিট না মেলায় স্কুল গেটে ধর্না, আত্মহত্যার হুমকি উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর, কেশপুরে চাঞ্চল্য

কেশপুর: একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে শিক্ষা দফতরের উদাসীনতা এবং স্কুলের লালফিতের ফাঁসে নষ্ট হয়ে গেল একটি ছাত্রীর কেরিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। সোমবার থেকে উচ্চ…

কেশপুর: একেবারে শেষ মুহূর্তে এসে শিক্ষা দফতরের উদাসীনতা এবং স্কুলের লালফিতের ফাঁসে নষ্ট হয়ে গেল একটি ছাত্রীর কেরিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরীক্ষা। সোমবার থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের তৃতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা শুরু হলেও, নিয়মিত ক্লাস ও সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরেও হাতে অ্যাডমিট কার্ড না আসায় পরীক্ষায় বসতে পারেননি পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর ব্লকের কুয়ায় উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী নূরতাজ খাতুন। এই চরম হেনস্তার শিকার হয়ে সোমবার সকাল থেকে স্কুল গেটের সামনেই ধর্না ও অবস্থান-বিক্ষোভে বসে পড়েন ওই পরীক্ষার্থী। এমনকী পরীক্ষায় বসতে না দিলে আত্মহত্যার মতো চরম পথ বেছে নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।

Advertisements

দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলেনি সুরাহা, কাঠগড়ায় স্কুল ও প্রশাসন

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে ফর্ম ফিলাপ করা সত্ত্বেও কেন ওই ছাত্রীর অ্যাডমিট এল না, তার উত্তর খুঁজতে বিডিও অফিস থেকে শুরু করে জেলা উচ্চ মাধ্যমিক কাউন্সিল এবং রাজ্য শিক্ষা ভবন, সব মহলেই কড়া নেড়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। অথচ স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁকে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার দিন সকালেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন ওই পরীক্ষার্থী।

   

প্রধান শিক্ষকের বিতর্কিত মন্তব্য ও পুলিশের হস্তক্ষেপ

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাসবিহারী বিদ্যার ভূমিকা নিয়ে বিরাট প্রশ্ন উঠেছে। প্রথমে তিনি দাবি করেন যে ওই ছাত্রী নাকি ফর্মই ফিলাপ করেননি! এরপর নিজের কথা থেকে সরে গিয়ে তিনি দাবি করেন, ফর্ম ফিলাপ ছাড়াও নাকি ‘বিশেষ অনুমতি’ বা স্পেশাল পারমিশনের মাধ্যমে অ্যাডমিট পাওয়া যায়, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রবল ধন্দ। পরে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা দেখেই ওই শিক্ষক ঘটনাস্থল থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এদিকে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় কেশপুর থানার পুলিশ ও স্কুল কর্তারা শেষ পর্যন্ত পরবর্তী পরীক্ষায় বসানোর আশ্বাস দিলে ছাত্রীটি বিক্ষোভ তুলে বাড়ি ফিরে যায়। এই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে প্রশাসনিক গাফিলতি ও স্কুলগুলির দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নিয়ে ফের বড়সড় বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

Advertisements