কলকাতা: নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী নির্দেশে জোড়াফুল প্রতীক ও ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি ফ্রিজ হওয়ার পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের খোঁজে ময়দানে নেমে পড়েছে মমতা ও ঋতব্রত-উভয় শিবিরই। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম মেনে নতুন নাম ও প্রতীকের প্রস্তাব জমা দেওয়া শুরু হয়েছে। কোন শিবির শেষ পর্যন্ত কী নাম বেছে নিচ্ছে এবং এই ইস্যুতে রাজ্য রাজনীতিতে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা একনজরে দেখে নেওয়া যাক-
দুই শিবিরের প্রস্তাবিত নাম ও রাজনৈতিক কৌশল
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কমিশনকে তিনটি নতুন নামের প্রস্তাব পাঠিয়েছে, ‘জাতীয়তাবাদী তৃণমূল কংগ্রেস’, ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল তৃণমূল কংগ্রেস’। অন্যদিকে, মমতাপন্থী শিবির দলের নামের সঙ্গে নেত্রীকে যুক্ত রাখতে চাইছে। অতীতে ‘কংগ্রেস (আই)’-এর আদলে মমতা-শিবির প্রস্তাব রেখেছে ‘তৃণমূল কংগ্রেস (এম)’ নামের। ভোটারদের কাছে নিজেদেরই যে আসল তৃণমূল বলে প্রমাণ করতে হবে, তা এই নামকরণের মাধ্যমেই স্পষ্ট। প্রতীক হাতছাড়া হলেও নেত্রীর মুখ ও ভাবমূর্তির ওপর ভর করেই উপনির্বাচনের বৈতরণী পার হতে চাইছে কালীঘাট পন্থী শিবির।
প্রতীক কাণ্ডে কংগ্রেসের তোপ ও বিজেপির কটাক্ষ
তৃণমূলের প্রতীক হারানোর এই ঘটনায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছে কংগ্রেস। সর্বভারতীয় কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেছেন যে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী মোদীর জন্মদিনে এই নির্দেশ দিয়ে আদতে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন। শিবসেনা ও এনসিপির ক্ষেত্রেও একই কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল বলে তোপ দেগেছেন তিনি। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছেন, “তৃণমূল কংগ্রেস বলে আর কোনো দল নেই, তৃণমূল মৃত।” প্রতীক হারানোর পর উপনির্বাচনের ময়দানে এই দুই নতুন নামে দুই শিবির কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।
জোড়াফুল হারিয়ে ভরসা কি ফুলকপি, আপেল বা বালতি? বেকায়দায় তৃণমূলের দুই শিবির!
১৫ বছরের তল্লাশির অবসান: গ্রেফতার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা অসীম ওরফে আকাশ
