কলকাতা: শতাব্দীপ্রাচীন কুমোরটুলির রূপ ও পরিকাঠামোয় আসতে চলেছে বড় রকমের পরিবর্তন। সরু গলি আর ত্রিপলে ঢাকা প্রচলিত মৃৎশিল্পীদের স্টুডিওগুলি শিফট করে কংক্রিটের বড় বিল্ডিংয়ে স্থানান্তরিত করার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন। আসন্ন দুর্গোৎসবের চূড়ান্ত প্রস্তুতির ব্যস্ততার মাঝেই এমনটাই জানিয়েছেন কুমোরটুলির মৃৎশিল্পীরা। ঐতিহ্যবাহী এই চত্বরকে সংস্কার করে সম্পূর্ণ অত্যাধুনিক ও পরিচ্ছন্ন করে তোলার নানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নতুন সরকার।
শিল্পীদের দাবি ও প্রশাসনের পরিকল্পনা
শ্রীকৃষ্ণ পাল স্টুডিওর বিশিষ্ট মৃৎশিল্পী রুদ্রজিৎ পালের মতে, বর্তমানে কুমোরটুলির প্রধান দাবি হলো চত্বরের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার। টিনের চাল এবং মাটির গর্তের জমানো জঞ্জাল দূর করে বড় ও পরিষ্কার জায়গায় কাজ করতে পারলে শিল্পীদের সুবিধা হবে। পাশাপাশি, দেশ-বিদেশ থেকে যে সমস্ত দর্শক প্রতিমা গড়ার কাজ দেখতে বা ছবি তুলতে আসেন, তাঁরাও একটি পরিচ্ছন্ন কুমোরটুলি দেখতে পাবেন। প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে স্টুডিওগুলি পরিদর্শন করে কংক্রিটের বিল্ডিং তৈরির প্রাথমিক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।
আন্ডারগ্রাউন্ড স্টুডিও ও আবহাওয়া থেকে সুরক্ষা
প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে কংক্রিটের বড় বিল্ডিং তৈরি হলে তার আন্ডারগ্রাউন্ডে বা ভূগর্ভে মৃৎশিল্পীদের স্টুডিওর জন্য নির্দিষ্ট জায়গা তৈরি করা হবে, সেখানেই চলবে প্রতিমা গড়ার কাজ। এই আধুনিকীকরণের ফলে বৃষ্টির দিনে আর পলিথিন বা ত্রিপল কিনে প্রতিমা ঢাকতে হবে না বলে মত দিয়েছেন শিল্পীরা। গত অগাস্ট মাসে রাজ্যের মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী কুমোরটুলি পরিদর্শন করে শিল্পীদের সংগঠনের কাছে উন্নয়নের বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব চান। এর পরেই শিল্পীরা নিজেদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানিয়ে দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছেন। আধুনিকীকরণের জোয়ারে কুমোরটুলির চিরাচরিত দৃশ্য কিছুটা বদলালেও, নতুন এই রূপ সাধারণ মানুষ কীভাবে গ্রহণ করে সেটাই দেখার বিষয়।
১৫ বছরের তল্লাশির অবসান: গ্রেফতার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ মাওবাদী নেতা অসীম ওরফে আকাশ
মোদীর জন্মদিনে অভিনব উদ্যোগ: পিছিয়ে পড়া গ্রাম দত্তক, জ্বলবে লক্ষাধিক প্রদীপ
