মুম্বই: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। আজ, ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে সা ধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য খুলে গেল ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (NSE)-র বহু প্রতীক্ষিত IPO। দেশের অন্যতম বড় এই পাবলিক ইস্যুকে ঘিরে বাজারে আগ্রহ তুঙ্গে। তবে IPO খোলার আগেই গ্রে মার্কেট প্রিমিয়াম বা GMP-তে বড় পতন দেখা দিয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর যেখানে GMP ছিল ২১৮ টাকা, ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে তা নেমে এসেছে ১২৫ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে প্রায় ৪৩ শতাংশ কমেছে এই অনানুষ্ঠানিক প্রিমিয়াম।
কত টাকার IPO?
NSE-র IPO-র প্রাইস ব্যান্ড রাখা হয়েছে ১,৭০০ থেকে ১,৭৮৫ টাকা। লট সাইজ ৮টি শেয়ার। ফলে সর্বোচ্চ দামে একটি লটের জন্য খরচ হবে ১৪,২৮০ টাকা। IPO-টি ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খোলা থাকবে। শেয়ার বরাদ্দের সম্ভাব্য তারিখ ২২ সেপ্টেম্বর। BSE-তে তালিকাভুক্তির সম্ভাব্য তারিখ ২৪ সেপ্টেম্বর।
ইস্যুটির আকার প্রায় ২২,৫৬৯ কোটি টাকা। এটি সম্পূর্ণ Offer for Sale বা OFS। অর্থাৎ নতুন শেয়ার ইস্যু করে NSE-র হাতে টাকা আসবে না। বিদ্যমান শেয়ারহোল্ডাররা ১২.৬৪ কোটি পর্যন্ত শেয়ার বিক্রি করবেন এবং সেই অর্থ তাঁদের কাছেই যাবে।
GMP কত?
১৭ সেপ্টেম্বর সকালে NSE IPO-র GMP ১২৫ টাকা বলে বাজার-তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইটগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ১,৭৮৫ টাকার верхরের ইস্যু মূল্যের সঙ্গে ১২৫ টাকা যোগ করলে সম্ভাব্য দাম দাঁড়ায় প্রায় ১,৯১০ টাকা। অর্থাৎ GMP-র ভিত্তিতে প্রায় ৭ শতাংশ প্রিমিয়ামের ইঙ্গিত মিলছে। তবে GMP কোনও সরকারি বা নিশ্চিত সূচক নয়। প্রকৃত লিস্টিং মূল্য এর থেকে আলাদা হতে পারে।
GMP-র গত কয়েক দিনের ছবিও উল্লেখযোগ্য। ১১ সেপ্টেম্বর ২১৮ টাকা থেকে তা ১২ সেপ্টেম্বর ২০৮, ১৩ সেপ্টেম্বর ২১০, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ১৬০, ১৬ সেপ্টেম্বর ১৪৫ এবং ১৭ সেপ্টেম্বর ১২৫ টাকায় নেমেছে। ফলে IPO খোলার আগে গ্রে মার্কেটে প্রত্যাশিত প্রিমিয়াম যথেষ্ট কমেছে।
অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের থেকে এল ৬,৭৪৬ কোটি
IPO খোলার এক দিন আগে অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে NSE প্রায় ৬,৭৪৬ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। ১,৭৮৫ টাকা দরে ৩.৭৭ কোটির বেশি শেয়ার ১৫০-রও বেশি অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীর মধ্যে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই তালিকায় LIC, GIC Singapore, Abu Dhabi Investment Authority এবং Norges Bank-এর মতো বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী রয়েছে।
NSE-র ব্যবসার শক্তি কোথায়?
ভারতের শেয়ারবাজারে NSE-র অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নগদ বাজার এবং ডেরিভেটিভসের বিভিন্ন বিভাগে সংস্থাটির বাজার-অংশীদারিত্ব অত্যন্ত বেশি। তবে সংস্থার আয়ের বড় অংশ ট্রেডিংয়ের লেনদেনমূলক চার্জ থেকে আসে। FY26-এ NSE-র অপারেটিং রেভিনিউয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ এসেছিল transaction charges থেকে। ফলে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ এবং বিশেষ করে অপশন ট্রেডিংয়ের পরিবর্তন সংস্থার আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
FY26-এ কমেছে লাভ
NSE-র আর্থিক ফলাফলেও কিছুটা চাপ দেখা গিয়েছে। FY26-এ সংস্থার অপারেশন থেকে আয় ছিল প্রায় ১৬,৬০১ কোটি টাকা। আগের অর্থবর্ষে তা ছিল প্রায় ১৭,১৪১ কোটি টাকা। একই সময়ে কর-পরবর্তী মুনাফা ১২,১৮৮ কোটি টাকা থেকে কমে প্রায় ১০,৩০২ কোটি টাকায় নেমেছে। Reuters-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের পরিমাণ কমা এবং নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন এই চাপের অন্যতম কারণ।
তবে FY27-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর ছবি দেখা গিয়েছে। ওই সময়ে অপারেশন থেকে আয় বছরে ১৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৪,৫৬০ কোটি টাকা হয়েছে। অপারেটিং EBITDA বেড়েছে ১৪.৮৪ শতাংশ এবং কর-পরবর্তী মুনাফা বেড়েছে ৬.৭১ শতাংশ।
ব্রোকারেজগুলির মত এক নয়
NSE IPO নিয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মতামতও এক নয়। কিছু ব্রোকারেজ সংস্থা NSE-র শক্তিশালী বাজার অবস্থান, বড় বিনিয়োগকারী ভিত্তি এবং ভারতের মূলধন বাজারের দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে Religare Broking মূল্যায়ন, নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন এবং ডেরিভেটিভস-নির্ভর আয়ের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে ‘Neutral’ অবস্থান নিয়েছে।
উপরের দিকের প্রাইস ব্যান্ডে NSE-র FY26 P/E প্রায় ৪২.৯ গুণ বলে NDTV Profit-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে BSE-র তুলনায় NSE-র মূল্যায়ন নিয়ে বাজারে আলোচনা চলছে।
ফলে NSE IPO-কে ঘিরে একদিকে রয়েছে দেশের শেয়ারবাজারে সংস্থাটির শক্তিশালী অবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির সম্ভাবনা। অন্যদিকে রয়েছে মূল্যায়ন, ডেরিভেটিভস ব্যবসার উপর নির্ভরতা এবং নিয়ন্ত্রক পরিবর্তনের ঝুঁকি। IPO-র GMP কমে যাওয়া এই মুহূর্তে বাজারের অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাশার পরিবর্তনকেও তুলে ধরছে। তবে GMP-কে নিশ্চিত লিস্টিং গেইনের পূর্বাভাস হিসেবে দেখা যায় না।
আইটিসি-র সিগারেটে ফের মূল্যবৃদ্ধি: মহার্ঘ কোন কোন ব্র্যান্ড?
১৫ অক্টোবর থেকে নতুন ইউপিআই নীতি: কার কত খরচ হবে, আর কী কী মিলবে বিনামূল্যে?
