নয়াদিল্লি: আধুনিক যুদ্ধের চরিত্র দ্রুত বদলাচ্ছে। (India S-400)আকাশপথে শুধু যুদ্ধবিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র নয়, এখন ড্রোন, কামিকাজে ড্রোন এবং একসঙ্গে বহু আকাশযানের হামলাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ জোরদার হয়েছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের পঞ্চম এবং শেষ S-400 Triumf স্কোয়াড্রন পাওয়ার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে আরও পাঁচটি S-400 স্কোয়াড্রন এবং রাশিয়ার Pantsir-S1 পয়েন্ট ডিফেন্স সিস্টেম কেনার বিষয়েও আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘জয় শ্রীরামকে সর তন্ সে জুদার সঙ্গে মেলানো যাবে না!’ মুসলিম সম্প্রদায়কে সতর্ক করল হাইকোর্ট
২০১৮ সালে প্রায় ৫.৪৩ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে রাশিয়ার কাছ থেকে পাঁচটি S-400 (India S-400)রেজিমেন্ট কেনার সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। সেই চুক্তির আওতায় প্রথম তিনটি ইউনিট ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ভারতীয় বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
চতুর্থ ইউনিটও চলতি বছরে দেশে এসেছে। এবার পঞ্চম ইউনিটটি নভেম্বর নাগাদ হাতে আসার কথা। সূত্রের খবর, নতুন এই ইউনিটটি দেশের পূর্বাঞ্চলে মোতায়েন করা হতে পারে। চিন সীমান্তের দিকে আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকি নজরে রাখা এবং দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তু মোকাবিলায় এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
তবে শুধু পাঁচটি S-400 নিয়েই থেমে থাকতে চাইছে না নয়াদিল্লি। ভারতের হাতে আরও পাঁচটি S-400 স্কোয়াড্রন তুলে দেওয়ার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনা চলছে। প্রস্তাবিত এই চুক্তির আনুমানিক মূল্য ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি বলে জানা যাচ্ছে।
ইতিমধ্যেই মস্কোর পক্ষ থেকে Bill of Quantities বা BOQ-র প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় সামগ্রীর খরচের বিস্তারিত হিসাব রয়েছে। এবার শুরু হবে আনুষ্ঠানিক মূল্য আলোচনা। এরপর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ও অর্থ মন্ত্রকের প্রয়োজনীয় অনুমোদনের পর বিষয়টি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যেতে পারে Cabinet Committee on Security বা CCS-এর কাছে।
ভারতের S-400 (India S-400)ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত-পাকিস্তান সামরিক সংঘাতের অভিজ্ঞতাকে সামনে রাখা হচ্ছে। অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন S-400-এর দীর্ঘপাল্লার প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে জোরালো দাবি সামনে আসে। সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, ওই সংঘাতে সিস্টেমটি মোট ছয়টি লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে বলে দাবি করা হয়েছে।
এর মধ্যে পাকিস্তানের একটি AEW&C বিমানকে প্রায় ৩১৪ কিলোমিটার দূর থেকে এবং একটি JF-17 যুদ্ধবিমানকে পাকিস্তানের আকাশসীমার প্রায় ২০০ কিলোমিটার ভিতরে ধ্বংস করার দাবিও রয়েছে। যদিও এই ধরনের যুদ্ধকালীন সাফল্যের দাবিগুলি নিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সব ক্ষেত্রে এক নয়, তবু ভারতীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় S-400-এর গুরুত্ব যে বেড়েছে, তা স্পষ্ট।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সংঘাত আরও একটি বিষয় সামনে এনেছে দূরপাল্লার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও ছোট ও তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন হামলা মোকাবিলা করা আলাদা চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানি বাহিনীর কামিকাজে ড্রোন S-400 ইউনিটকে (India S-400)লক্ষ্য করার চেষ্টা সেই ঝুঁকির কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে।
এই কারণেই এবার রাশিয়ার Pantsir-S1 সিস্টেম নিয়েও আলোচনা করছে ভারত। ক্ষেপণাস্ত্র ও স্বয়ংক্রিয় কামান দুই ধরনের অস্ত্রের সমন্বয়ে তৈরি এই ব্যবস্থা মূলত কাছাকাছি দূরত্বে আকাশপথের হুমকি প্রতিহত করার জন্য ব্যবহৃত হয়। বিশেষ করে ড্রোন, লো-ফ্লাইং টার্গেট এবং লোইটারিং মিউনিশনের বিরুদ্ধে S-400-এর মতো দূরপাল্লার সিস্টেমকে সুরক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি ‘বডিগার্ড’ হিসেবে কাজ করতে পারে।
