কলকাতা: বাঙালির দুর্গাপুজোর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে নবমীর পাঠার মাংস বা মণ্ডপের ধারের মুচমুচে ফিশ ফ্রাইয়ের আবেগ। কিন্তু সেই চিরকালীন আবেগে সরাসরি আঘাত হেনেছেন বাগেশ্বর ধামের ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী। দুর্গাপুজো মণ্ডপের আশপাশে আমিষ খাবার নিষিদ্ধ করার ডাক দিয়ে তিনি রাজ্যে কার্যত এক গভীর সাংস্কৃতিক সংঘাতের জন্ম দিয়েছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, হিন্দি বলয়ের ‘নবরাত্রি’-র নিরামিষ সংস্কৃতির সঙ্গে বাঙালির দুর্গাপুজোর এই সংঘাত নিছকই খাদ্যাভ্যাসের নয়, বরং তা বাঙালির আত্মপরিচয়ের লড়াই। আর ঠিক এখানেই শুরু হচ্ছে আসল রাজনৈতিক লড়াই।
বিশ্লেষকদের মতে, প্লেট ঘিরে শুরু হওয়া এই বিতর্কের জেরে এক প্রবল রাজনৈতিক স্ববিরোধিতার (Paradox) মুখে দাঁড়িয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একদিকে তিনি বাগেশ্বর বাবাকে রাজ্যে স্বাগত জানিয়ে এখানে স্থায়ী আধ্যাত্মিক কেন্দ্র খোলার প্রকাশ্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আর অন্যদিকে, সেই ‘বাবা’ই সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের প্রতি। বাঙালিকে দুর্গাপুজোর আচার শেখানো যে কার্যত অসম্ভব, তা বিলক্ষণ জানে রাজনৈতিক মহল।
তাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, বাংলার চিরাচরিত হিন্দু ধর্ম এবং লোকাচারকে অক্ষুণ্ণ রেখে কি হিন্দি বলয়ের হিন্দুত্বকে এ রাজ্যে আমদানি করা সম্ভব? এই জোড়া ফলার চ্যালেঞ্জ মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে সামলান, সেটাই এখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরীক্ষাগারের সবচেয়ে বড় চর্চা। আগামী দিনে বাংলার গেরুয়া সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়তো মন্দির-মসজিদ বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) নিয়ে হবে না। সেই মেগা ফাইট হতে পারে বাঙালির প্লেটে থাকা ‘মাটন কষা’ বা ‘ফিশ ফ্রাই’ ঘিরেই।
দেশে প্রথম! দূরপাল্লার পর এ বার লোকাল ট্রেনেও সফল ‘কবচ’ পরীক্ষা হাওড়ায়
ব্যানারে লিখতে হবে মালিকের ধর্ম! ইলামবাজারে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের ফতোয়ায় বিতর্ক
