কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বাল্যবিবাহ রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন(child marriage)। তিনি জানিয়েছেন, গত ছয় মাসে শুধু মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ১২ হাজারেরও বেশি নাবালিকা প্রসূতির ঘটনা ঘটেছে। রাজ্যজুড়ে এই সংখ্যা আরও বেশি। এই পরিস্থিতি রুখতে পকসো আইন ও বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, পকসো আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তিগত আইন বা ধর্মীয় ব্যক্তিগত আইনের ছাড় নেই। ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়ের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা ফৌজদারি অপরাধ। (child marriage)বিয়ে হোক বা না হোক, এই আইন প্রযোজ্য হবে। বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককেই গ্রেফতার করা হবে। শুধু স্বামী নয়, যারা এই বিয়ে সম্পন্ন করায় সাহায্য করেছেন অভিভাবক, পুরোহিত বা কাজী তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরও দেখুনঃ দেশের প্রতিরক্ষায় অগ্রগতি! ১.১০ লক্ষ কোটির অস্ত্র প্রস্তাবে সই রাজনাথের
সরকারি সুবিধা বন্ধের কথাও তিনি স্পষ্ট করেছেন। বাল্যবিবাহের সঙ্গে জড়িত পরিবার কোনো সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাবে না। আর্থিক সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প সবকিছু থেকে তাঁদের বঞ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্য দপ্তর নোটিশ জারি করে প্রমাণ চাইবে যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রাপ্তবয়স্ক। (child marriage)প্রমাণ দিতে না পারলে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।মুর্শিদাবাদ জেলায় এই সমস্যা সবচেয়ে প্রকট। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সেখানে ১২ হাজার ৮৪৭টি নাবালিকা প্রসূতির ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমানেও সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। রাজ্য সরকার মনে করছে, এই প্রবণতা মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে। অল্প বয়সে মা হওয়া শরীর ও মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বাল্যবিবাহ ও নাবালিকা গর্ভধারণের ঘটনা চিহ্নিত করা হবে। প্রতিটি কেস রিপোর্ট করতে হবে। আইন প্রয়োগে কোনো আপস করা হবে না।
আরও দেখুনঃ
ধর্ম বা সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে একই আইনের আওতায় আনা হবে। পকসো আইন জামিন অযোগ্য এবং শাস্তিও কঠোর দশ বছর থেকে যাবজ্জীবন, (child marriage)এমনকি মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, সামাজিক ব্যাধি। এটি দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব এবং সামাজিক কুসংস্কারের সঙ্গে জড়িত। সরকার শুধু শাস্তির ওপর নির্ভর না করে সচেতনতা বাড়ানোরও পরিকল্পনা করছে। স্কুল, আঙ্গনওয়াড়ি ও স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রচার চালানো হবে।
মেয়েদের শিক্ষা অব্যাহত রাখা এবং পরিবারকে সচেতন করা জরুরি।এই ঘোষণা রাজ্যে বাল্যবিবাহ রোধের লক্ষ্যে একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। আইন থাকলেও প্রয়োগের অভাবে সমস্যা বাড়ছিল। এবার প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। মুর্শিদাবাদসহ অন্যান্য জেলায় যদি সত্যিই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
