লখনউ: দেশের সুরক্ষায় হাসিমুখে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন বীর সন্তান। সেই অসামান্য বীরত্বের স্বীকৃতি হিসেবে মিলেছিল ‘শৌর্য চক্র’-এর মতো সম্মান। কিন্তু দীর্ঘ ২২ বছর ধরে সরকারি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের আশায় দপ্তরে দপ্তরে ঘুরে আজ চূড়ান্ত ক্লান্ত, বিধ্বস্ত তাঁর বৃদ্ধা মা। প্রশাসনের লাগাতার টালবাহানা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বীতশ্রদ্ধ হয়ে এ বার চরম সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন ৮০ বছরের সাবিত্রী সাক্সেনা। প্রশাসন অবিলম্বে প্রতিশ্রুতি পালন না করলে শহিদ ছেলের শৌর্য চক্র, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক এবং সমস্ত আর্থিক সম্মাননা সরকারকে ফিরিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
কী ঘটেছিল ২২ বছর আগে?
২০০৩ সালের ৮ জানুয়ারি মণিপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শহিদ হন অ্যাসিস্ট্যান্ট কম্যান্ডান্ট বিবেক সাক্সেনা। তাঁর এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগের পর উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফ থেকে শহিদ পরিবারের জন্য এক খণ্ড জমি এবং বিবেকের স্মৃতিতে একটি স্মারক নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু শহিদের দাদা রঞ্জিত সাক্সেনার অভিযোগ, দুই দশকের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সেই জমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া আজও বিশ বাঁও জলে। ২০১৬ সালে লখনউয়ের তৎকালীন জেলাশাসক রাজ শেখর বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের নির্দেশ দিলেও, বাস্তবে কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
নাগরিকত্ব প্রমাণের আজব দাবি
সরকারি উদাসীনতার চূড়ান্ত নিদর্শন মেলে এর ঠিক পরেই। হঠাৎ করেই প্রশাসনের তরফে শহিদ পরিবারের কাছে তাঁরা যে উত্তরপ্রদেশের আদি বাসিন্দা (Domicile), তার প্রমাণ চাওয়া হয়। রঞ্জিতের আক্ষেপ, “আমরা এখানেই বড় হয়েছি, এখানকার স্কুলেই পড়াশোনা করেছি। মেমোরা এয়ারফোর্স স্টেশনে আমার ভাইয়ের স্মৃতিচিহ্ন রাখা আছে। তা সত্ত্বেও মায়ের বিয়ের আগের ঠিকানার হলফনামা চাওয়া হয় আমাদের কাছে।” সেই হলফনামা জমা দেওয়ার পরেও আধিকারিকরা তাঁদের রাজ্যের আদি বাসিন্দা হিসেবে মানতে নারাজ বলে অভিযোগ পরিবারের। অথচ, এই ঠিকানাতেই এক সময় উত্তরপ্রদেশ সরকারের পাঠানো ৭৫ হাজার টাকার একটি চেক গ্রহণ করেছিল সাক্সেনা পরিবার। পুরনো সেই রসিদ দেখিয়ে পরিবারের প্রশ্ন, আগে যখন এই ঠিকানাতেই সরকারি অনুদান এসেছে, তখন আজ নতুন করে বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ কেন দিতে হবে?
অবশেষে নড়েচড়ে বসল প্রশাসন
হয়রানির এখানেই শেষ নয়। বিবেক সাক্সেনা শহিদ হওয়ার দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর, ২০২৪ সালে এসে তাঁর শৌর্য চক্রের সঙ্গে যুক্ত আর্থিক সম্মাননাটি হাতে পায় পরিবার। রঞ্জিতের দাবি, আধিকারিকদের গাফিলতির জেরে বছরের পর বছর ধরে ফাইল আটকে ছিল। এই অনন্ত লড়াইয়ে আজ কার্যত শ্রান্ত আশি পেরোনো সাবিত্রী দেবী। লখনউয়ে একটি জনশুনানি কর্মসূচিতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি অফিসে চক্কর কাটার মতো শারীরিক সামর্থ্য তাঁর আর নেই।
ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছেন এই শহিদ-জননী। তাঁর স্পষ্ট কথা, জমি পাওয়ার জন্য যদি এই বয়সেও তাঁকে দোরে দোরে ভিখারির মতো ঘুরতে হয়, তবে সরকার যেন তাঁর ছেলের সমস্ত পদক ফিরিয়ে নেয়। বৃদ্ধার এই করুণ আর্জি সামনে আসার পরেই অবশ্য কিছুটা টনক নড়েছে প্রশাসনের। মহকুমাশাসক (SDM) অবিলম্বে এই অভিযোগের তদন্ত করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন আধিকারিকদের। এখন দেখার, ২২ বছরের এই বঞ্চনার কি আদৌ কোনও স্থায়ী সমাধান হয়, নাকি লাল ফিতের ফাঁস আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে রাখে এক শহিদ পরিবারের অধিকারকে!
UPI তে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট চালু হলে খরচ চাপবে গ্রাহকের ঘাড়ে! সমীক্ষায় চাঞ্চল্য
বিরোধী জোট জিতলে প্রধানমন্ত্রী পদের স্বাভাবিক দাবিদার রাহুলই! অকপট বাম নেতা
