ওয়াশিংটন/তেহরান: আমেরিকার নিশানায় এ বার ইরানের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ কেন্দ্র। শনিবার ইরানের খর্গ দ্বীপের (Kharg Island) কাছে একটি তেলের ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে খবর। এই ঘটনার জেরে ওই এলাকায় একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘নুরনিউজ’-এর তরফ থেকে এই খবর প্রকাশ্যে এনেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘আসর ইরান’ জানিয়েছে, ট্যাঙ্কারটি থেকে যখন তেল নামানো হচ্ছিল, ঠিক সেই সময়েই পরপর চারটি প্রজেক্টাইল বা ক্ষেপণাস্ত্র এসে আঘাত হানে। যদিও ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ-এর দাবি, খর্গ দ্বীপের কাছে জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও, সেখানে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়নি। তবে এই হামলার বিষয়ে ইরানের সরকারি আধিকারিকদের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।
গত কয়েক মাস ধরেই আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এক চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ৩০ অগস্ট হরমুজ প্রণালীর কাছে লারাক দ্বীপে ইরানি বাহিনীর উপর হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। ওয়াশিংটনের দাবি ছিল, ওই এলাকায় মাইন বিছানো এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছিল ইরানি বাহিনী। এর প্রত্যাঘাতে জর্ডনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ে তেহরান।
এর পর গত ১ সেপ্টেম্বর সংঘাত আরও তীব্র হয়। ওই দিন ইরানের দক্ষিণ উপকূলে একযোগে একাধিক হামলা চালায় মার্কিন সেনা। ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) সমাজমাধ্যমে জানায়, তারা ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর বিমান-প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রেডার, নৌ-সম্পদ এবং যোগাযোগ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করেছে। বাণিজ্যিক জাহাজের উপর আইআরজিসি-র লাগাতার হামলার জবাবেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি আমেরিকার। এই হামলার পরেই ইরাক, বাহরিন এবং জর্ডনে মার্কিন ও তাদের মিত্রবাহিনীর ঘাঁটিগুলিতে পাল্টা আঘাত হানে ইরান।
আমেরিকা এবং ইরানের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাতে বর্তমানে অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। ইরান এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছে, অন্যদিকে আমেরিকা তেহরানের এই আধিপত্য খর্ব করতে মরিয়া। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জ্বালানি করিডর দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ যাতায়াত করে। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর কাছে দু’পক্ষের এই গোলাগুলি এবং হামলার জেরে ইতিমধ্যেই ওই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। লাগাতার এই সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
আদানির পর এবার টাটা কেমিক্যালসকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল কেনিয়া
নেপালে হড়পা বানে নিখোঁজ ৬০০ শিশু! ‘সন্তানরা কোথায়?’ হাহাকার বাবা-মায়েদের
