নয়াদিল্লি: সংযুক্ত কৃষক মোর্চা বা এসকেএম মোদী সরকারের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ-এর (Free trade)বিরুদ্ধে বড় ধরনের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে। কৃষক মোর্চা সব এফটিএ বাতিলের দাবি জানিয়েছে এবং দেশজুড়ে বিশাল জনসমাবেশের পরিকল্পনা করেছে। এক কোটি কৃষক স্বয়ংসেবক গড়ে তোলা, এক লাখ গ্রামে কৃষক পঞ্চায়েত এবং শতাধিক মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়কের সঙ্গে বৈঠকের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
এসকেএম প্রায় পাঁচ শতাধিক কৃষক সংগঠনের ছাতা সংগঠন। বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমকে তারা জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তরুণ কৃষক স্বয়ংসেবক নিয়োগ করা হবে। এক কোটি স্বয়ংসেবক তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আড়াই লাখ নারী কৃষক থাকবেন। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে এক লাখ গ্রামে কৃষক পঞ্চায়েত অনুষ্ঠিত হবে।
আরও দেখুনঃ আদানির পর এবার টাটা কেমিক্যালসকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিল কেনিয়া
এসব সভায় কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো হবে। (Free trade)এসকেএম নেতারা বলেন, ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এক শতাধিক মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কের সঙ্গে প্রতিনিধি দল বৈঠক করেছে। তাদের কাছে দাবিপত্র পেশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও চিঠি দেওয়া হয়েছে সাক্ষাৎ চেয়ে। তবে এখনো কোনো সময়সূচি পাওয়া যায়নি।
নেতারা অভিযোগ করেছেন, কৃষকরা দেশের ৬৫ শতাংশ জনগোষ্ঠী হয়েও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছাতে পারছেন না।২০২১ সালে কৃষক আন্দোলন প্রত্যাহারের সময় সরকার লিখিত আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু ঋণ মকুব ও ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি আইনী স্বীকৃতির মতো দাবি পূরণ হয়নি বলে এসকেএম দাবি করেছে। এবার এফটিএ-এর বিরুদ্ধে নতুন করে লড়াই শুরু করার কথা বলা হচ্ছে। অক্টোবরের ৩ তারিখ লখিমপুর খেরি শহিদ দিবসে এক লাখ গ্রামে মহাপঞ্চায়েত হবে।
নভেম্বরের ২৬ তারিখ থেকে পুরোদমে আন্দোলন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।কৃষক সংগঠনগুলো মনে করে, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি দেশীয় কৃষি ও ক্ষুদ্র উৎপাদকদের ক্ষতি করবে। সস্তা আমদানি বেড়ে গেলে স্থানীয় কৃষকদের আয় কমে যাবে। খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এসকেএম এফটিএ বাতিলের পাশাপাশি এমএসপি আইনী গ্যারান্টি, ঋণ মকুব এবং অন্যান্য কৃষি সুরক্ষা দাবিও তুলে ধরছে।
আন্দোলনের রূপরেখা ইতিমধ্যে তৈরি করা হচ্ছে। অক্টোবরের ১২ তারিখ হরিয়ানার কর্নালে এসকেএমের জাতীয় কাউন্সিল ও সাধারণ পরিষদের বৈঠক হবে। সেখানে আন্দোলনের বিস্তারিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি সরকার দাবি না মানে তাহলে নভেম্বর থেকে দিল্লিসহ দেশের এক শতাধিক স্থানে বড় সমাবেশ ও মিছিলের পরিকল্পনা রয়েছে।
