বিপদ কাটেনি! আলগা হিমবাহ থেকে নেপালে ফের বিধ্বংসী বন্যার আশঙ্কা

কাঠমাণ্ডু: ধ্বংসস্তূপের পাহাড় খুঁড়ে এখনও উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক নিথর দেহ। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে স্বজনহারাদের হাহাকারে ভারী হিমালয়ের বাতাস। ঠিক এক সপ্তাহ আগে নেপালে…

কাঠমাণ্ডু: ধ্বংসস্তূপের পাহাড় খুঁড়ে এখনও উদ্ধার হচ্ছে একের পর এক নিথর দেহ। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে স্বজনহারাদের হাহাকারে ভারী হিমালয়ের বাতাস। ঠিক এক সপ্তাহ আগে নেপালে ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন জল-প্রলয়ে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ১,০৫০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এখনও নিখোঁজ প্রায় চার হাজার মানুষ। এই হাড়হিম করা পরিস্থিতির মাঝেই এবার নতুন আশঙ্কার মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের ক্ষত শুকোনোর আগেই নেপালে ফের এক দফা বড়সড় হিমবাহ ধস ও বিধ্বংসী প্লাবনের চরম সতর্কতা জারি করল চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক।

Advertisements

কী ঘটেছিল ২৬ অগস্ট?

ভূবিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ অগস্ট সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৫,২০০ মিটার উচ্চতায় নেপালের লাংটাং লিরুং সংলগ্ন হিমবাহের একটি বিশাল অংশ ভেঙে পড়ে। পাহাড়ের খাড়া ঢাল বেয়ে বরফ, পাথর, মাটি এবং জলের সেই সর্বনাশা স্রোত সেকেন্ডে প্রায় ৫০ মিটার গতিতে নেমে আসে নিম্নাঞ্চলের দিকে। ২০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করে লেন্দে খোলা নদী অববাহিকা দিয়ে নেমে আসার সময় আশপাশের জনবসতি, রাস্তাঘাট, সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিমেষে ধূলিসাৎ করে দেয় এই জলস্রোত। প্রায় ১০০ কিলোমিটার ভাটিতে কালচীতে মাত্র আধ ঘণ্টার মধ্যে নদীর জলস্তর একধাক্কায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতের গিরোং বন্দর এলাকাতেও এই ধ্বংসযজ্ঞের আঁচ পৌঁছয়।

   

কেন ফের বিপর্যয়ের সতর্কতা?

চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে যে ছোকেন খোলা নদীর কাছে তৈরি হওয়া গহ্বরের জমে থাকা জল অনেকটাই নেমে গিয়েছে এবং নদী এখন স্বাভাবিক গতিতে বইছে। তবে বিপদ কাটেনি। বরং ওই গহ্বরের চারপাশের হিমবাহ এবং পাহাড়ি ঢালগুলি এখনও অত্যন্ত নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে সেখানে নতুন করে ধস নামতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, প্রথম ধসের পর নদীতে বিপুল পরিমাণ পাথর ও কাদা জমে প্রাকৃতিকভাবে একধরনের কৃত্রিম বাঁধ বা হ্রদ (Barrier lakes) তৈরি হয়েছে। তাছাড়া নদীর ভাটিতে একাধিক ছোট ছোট ধস দেখা যাচ্ছে, যা যেকোনো মুহূর্তে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে দিতে পারে। সেই আলগা বাঁধ যদি এক নিমেষে ভেঙে যায়, তবে ফের রাক্ষুসে জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসবে নিম্নাঞ্চলের উপত্যকাগুলির দিকে। আর সেই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার সামান্য সময়টুকুও মিলবে না।

Advertisements

জলবায়ু পরিবর্তন ও হিমালয়ের বিপদ

নিউজিল্যান্ডের আর্থ সায়েন্সেসের প্রধান বিজ্ঞানী সাইমন কক্স জানিয়েছেন, একমাত্র জলবায়ু পরিবর্তনই এই ধসের একক কারণ না হলেও, উষ্ণায়নের ফলে হিমালয়ের জমে থাকা বরফ এবং আলগা পাথর মারাত্মকভাবে ভারসাম্য হারাচ্ছে। যার জেরে একের পর এক বিপর্যয় শৃঙ্খলের মতো নেমে আসছে। পাহাড়ি নদীগুলির ওপর নির্ভরশীল নেপালের মতো দেশের ক্ষেত্রে এই ভৌগোলিক অস্থিতিশীলতা চরম অস্তিত্বের সংকট তৈরি করেছে।

উদ্ধারকারী দলগুলি যখন টন টন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে নিখোঁজদের দেহ উদ্ধারে সর্বশক্তি দিয়ে লড়ছে, তখন মাথার ওপর খাঁড়ার মতো ঝুলছে পাহাড়ে নতুন ধস নামার এই চরম পূর্বাভাস।

মাঝরাতে দুই জাহাজের ভয়ংকর সংঘর্ষ! তুরস্কে নিখোঁজ ১০ নাবিক

দুর্ভোগের জন্য দায়ী ভারত, চিন-আমেরিকা! ক্ষতিপূরণ চাইল নেপাল

Advertisements