কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকার আরও ১২টি রাজ্য পরিচালিত ইএসআই হাসপাতাল (ESI hospitals)কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ এমপ্লয়িজ স্টেট ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন বা ইএসআইসি-র কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। গত জুলাই মাসে আসানসোল ইএসআই হাসপাতাল ইতিমধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন বাকি ১২টি হাসপাতালের প্রস্তাব নয়াদিল্লিতে ইএসআইসি বোর্ডের কাছে পাঠানো হবে অনুমোদনের জন্য।
এই ১৩টি হাসপাতালের নেটওয়ার্ক কলকাতা, হাওড়া-হুগলি, নদিয়া ও পশ্চিম বর্ধমান জুড়ে ছড়িয়ে আছে। মোট শয্যা সংখ্যা তিন হাজারেরও বেশি। ১৯৬৪ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা এই হাসপাতালগুলো মূলত রাজ্যের শিল্প শ্রমিকদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি হয়েছিল। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচশো শয্যার মানিকতলা রেফারেল হাসপাতাল, শিয়ালদহের অনকোলজি ও পেইন ম্যানেজমেন্ট সুবিধাযুক্ত কেন্দ্র এবং বেলুড়ের বিশেষ যক্ষ্মা হাসপাতাল।
আরও দেখুনঃ যুবভারতীর কলঙ্ক মুছতে ফের শহরে মেসি-ম্যাজিক? টাকা ফেরতের আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং জানিয়েছেন, আসানসোল হাসপাতাল হস্তান্তরের পর (ESI hospitals)এখন বাকিগুলোর জন্য বিস্তারিত প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য হলো হাসপাতালগুলোর পরিচালনা আরও উন্নত করা এবং পরিকাঠামো আধুনিকায়ন করা। আসানসোলের মডেল অনুসরণ করে এই হাসপাতালগুলোকে পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। আসানসোলের বিশ একর ক্যাম্পাসে একশো সিটের মেডিকেল কলেজ গড়ে তোলার কাজ এগিয়ে চলেছে।এই হস্তান্তর শুধু প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়।
এটি শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবার প্রতিশ্রুতি। (ESI hospitals)ইএসআই স্কিমের আওতায় থাকা বিমাকৃত শ্রমিকরা এখন আরও আধুনিক সুবিধা পাবেন। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণে এলে পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং সরঞ্জাম আধুনিকায়ন সহজ হবে। আসানসোলের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, হস্তান্তরের পর মেডিকেল শিক্ষা ও উন্নত সেবার পথ খুলে যায়।রাজ্য সরকার চায়, এই হাসপাতালগুলো শুধু চিকিৎসা কেন্দ্র না থেকে মেডিকেল কলেজ হিসেবেও কাজ করুক।
তাতে স্থানীয় ছাত্রছাত্রীরা মেডিকেল শিক্ষার সুযোগ পাবেন এবং শিল্প অঞ্চলে (ESI hospitals)দক্ষ চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়বে। মানিকতলার মতো বড় হাসপাতালগুলো রেফারেল সেন্টার হিসেবে আরও শক্তিশালী হবে। সিয়ালদহের ক্যানসার চিকিৎসা ও বেলুড়ের যক্ষ্মা সেবা বিশেষ গুরুত্ব পাবে।এই সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন অধ্যায় খুলে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় এলে সেগুলো দূর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইএসআইসি বোর্ড অনুমোদন দিলে প্রক্রিয়া দ্রুত এগোবে।
