বাংলার পণ্য পরিবহনে প্রাণ সঞ্চার করে আদ্রা থেকে জয়চণ্ডীপাহাড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ বাইপাস

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হতে চলেছে (bypass)। ভারতীয় রেলওয়ে পুরুলিয়ার আদ্রা থেকে জয়চণ্ডীপাহাড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাইপাস লাইন…

adra-joychandi-pahar-bypass

কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের পণ্য পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন করে প্রাণ সঞ্চার হতে চলেছে (bypass)। ভারতীয় রেলওয়ে পুরুলিয়ার আদ্রা থেকে জয়চণ্ডীপাহাড় পর্যন্ত ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাইপাস লাইন নির্মাণের জন্য ২৭২ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্প শুধু যানজট কমাবে না, বরং শিল্প ও খনিজ সম্পদ পরিবহণের ক্ষেত্রে নতুন গতি আনবে।

Advertisements

দক্ষিণ-পূর্ব রেলওয়ের অধীনে এই আদ্রা-জয়চণ্ডীপাহাড়-সাঁকা বাইপাস তৈরি করা হবে।(bypass) এর মূল লক্ষ্য হলো পণ্যবাহী ট্রেনগুলোর জন্য আলাদা পথ তৈরি করা এবং আসন্ন তৃতীয় লাইনের সঙ্গে দ্বিমুখী সংযোগ স্থাপন করা। বর্তমানে এই করিডোর প্রায় ৭১ শতাংশ ব্যবহার হচ্ছে। পৃষ্ঠদেশীয় ক্রসিংয়ের কারণে ট্রেনগুলোকে বারবার থামতে হয়, ফলে গতি কমে যায় এবং যানজট বাড়ে। নতুন বাইপাস সেই সমস্যাগুলো দূর করবে।

   

আরও দেখুনঃ দুর্ভোগের জন্য দায়ী ভারত, চিন-আমেরিকা! ক্ষতিপূরণ চাইল নেপাল

প্রত্যাশিতভাবে প্রতিদিন ৬.০৬৫টি পণ্যবাহী রেক চলাচল করতে পারবে এখানে। (bypass)এই প্রকল্পের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় যখন দেখা যায় এটি সরাসরি শিল্প চাহিদার সঙ্গে যুক্ত। স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া বা সেইলের ২৩.৪০ মিলিয়ন টন প্রতি বছর লোহা আকরিকের চাহিদা মেটাতে এবং ভারত কোকিং কোল লিমিটেড বা বিসিসিএল-এর প্রতিদিন ৪৫টি কয়লা রেকের প্রক্ষেপিত চলাচলকে সহায়তা করবে এই লাইন।

Advertisements

সম্পন্ন হলে অতিরিক্ত ৮.৮৮ মিলিয়ন টন প্রতি বছর ট্রাফিক পরিবহণ সম্ভব হবে। (bypass)জয়চণ্ডীপাহাড়-আদ্রা সেকশনের বর্তমান লাইন ক্ষমতা ৪৭.৫০ শতাংশ থেকে ২০২৮-২৯ সালের মধ্যে ৫৬.৪৫ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।এই বাইপাস শুধু একটি স্থানীয় প্রকল্প নয়। এটি ভারতীয় রেলওয়ের শক্তি, খনিজ ও সিমেন্ট করিডোরের অংশ।

কয়লা, লোহা আকরিক, সিমেন্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প পণ্যগুলো আরও সহজে ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে। পুরুলিয়া ও আশেপাশের অঞ্চলে শিল্প কারখানাগুলো উপকৃত হবে। স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে নির্মাণ পর্যায়ে এবং পরবর্তীকালে পরিবহণ খাতে।

রেল মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে, (bypass)এই প্রকল্প বিদ্যমান কার্যকরী বাধাগুলো দূর করবে এবং পৃষ্ঠদেশীয় ক্রসিংজনিত বিলম্ব কমিয়ে আনবে। ফলে পণ্য পরিবহণের দক্ষতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি ট্রাফিক সামলানো সম্ভব হবে। আদ্রা এলাকা ইতিমধ্যেই পণ্য পরিবহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এখানকার লাইনগুলোতে চাপ বেড়ে চলেছে শিল্পের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে। নতুন বাইপাস সেই চাপ কমাবে এবং মসৃণ চলাচল নিশ্চিত করবে।

Advertisements