Budget 2027: ২০২৭ সালের বাজেট প্রণয়নের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রক সমস্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রক ও বিভাগকে আগামী অর্থবছরের জন্য ব্যয় ও আয়ের বাস্তবসম্মত প্রাক্কলন প্রস্তুত করতে বলেছে। সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, বিভিন্ন প্রকল্প পর্যালোচনা এবং কর-বহির্ভূত রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর সরকারের বিশেষ মনোযোগ থাকবে।
অর্থ মন্ত্রক কর্তৃক জারি করা বাজেট সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাজেট-পূর্ব আলোচনা সভাগুলো ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর শুরু হয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত চলবে। ব্যয় সচিব এই সভাগুলোর সভাপতিত্ব করবেন। বিভিন্ন মন্ত্রককে ৬ অক্টোবরের মধ্যে বাজেট-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য এবং ১৫ অক্টোবরের মধ্যে কর-রাজস্ব বিষয়ক প্রাক্কলন জমা দিতে হবে। মন্ত্রকগুলোকে প্রথমেই চলমান ব্যয় বা বাধ্যতামূলক দায়বদ্ধতা মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান রাখতে হবে; এরপরই কেবল নতুন কোনো প্রকল্প বা ব্যয়ের জন্য অর্থ চাওয়া যাবে।
ব্যয় প্রাক্কলনের সময় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রকৃত ব্যয়, গত বছরের একই সময়ে সংঘটিত ব্যয়, বকেয়া পাওনা এবং অবশিষ্ট অর্থের পরিমাণ বিবেচনায় নিতে হবে।
বিদ্যমান প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা
সরকার নির্দেশ দিয়েছে যে, যেসব প্রকল্প বন্ধ হয়ে গেছে সেগুলোকে সংশোধিত প্রাক্কলন (revised estimates) থেকে বাদ দিতে হবে। এছাড়া, যেসব প্রকল্প ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরেও চালু থাকবে না, সেগুলোর জন্য ২০২৭-২৮ অর্থবছরের বাজেটে কোনো অর্থ বরাদ্দ করা হবে না। সরকার আরও প্রত্যাশা করে যে, মন্ত্রকগুলো যেন অর্থবছর শেষে বিপুল পরিমাণ অব্যয়িত অর্থ ফেরত দেওয়া থেকে বিরত থাকে; কোনো অনুদানের আওতায় যদি ১০০ কোটি টাকা বা তার বেশি অর্থ সাশ্রয় হয়, তবে সেই সাশ্রয়ের কারণ অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে।
অ-কর রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ
সরকার বিভিন্ন মন্ত্রকের কাছে ব্যবহারকারী-মাশুল (user charges), বকেয়া পাওনা এবং অ-কর রাজস্বের অন্যান্য উৎস সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছে। সরকারি ব্যয়ের পুনরুদ্ধার এবং যৌক্তিক আয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেবামাশুল বা সার্ভিস চার্জও পর্যালোচনা করা হতে পারে। তবে ২০২৭ সালের বাজেটে কর-সংক্রান্ত কী কী পরিবর্তন আনা হবে, ভর্তুকি কতটা কমানো হবে কিংবা বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ কী হবে—সেসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়। বাজেট প্রণয়ন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে এসব সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
