ফরিদপুর: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে (Faridpur)বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান না করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলে তাঁর অপসারণ ও শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় কিছু মৌলবাদী ও বিক্ষোভকারী।
যদিও প্রধান শিক্ষক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। (Faridpur)তাঁর দাবি, অনুষ্ঠান বন্ধ করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না; বরং মিলাদুন্নবী পালনের জন্য তিনি বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক জাকির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়ার পাশাপাশি এক হাজার টাকা দিয়েছিলেন। ফলে অনুষ্ঠানটি কেন হয়নি, তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি দাবি এবং প্রশাসনিক তদন্ত।
আরও দেখুনঃ বাংলাদেশের রাস্তায় ‘অ্যান্টি-ইন্ডিয়া’ গ্রাফিতি! বিদ্যুৎ সংকটকে হাতিয়ার করে ভারতবিরোধী প্রচার
‘কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করুক ভারত’! বাংলাদেশে হিন্দু হত্যা নিয়ে বিস্ফোরক তথাগত
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জুম্মার নামাজের পর ভাঙ্গা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে শত শত মানুষ জড়ো হন। (Faridpur)সেখানে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় এবং তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি ওঠে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকারি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের কোনও আয়োজন করা হয়নি। তাঁদের দাবি, বিষয়টি ইচ্ছাকৃতভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং এর জন্য প্রধান শিক্ষককেই দায় নিতে হবে।
তবে বিক্ষোভকারীদের এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন প্রধান শিক্ষক অরুণ চন্দ্র দত্ত। তাঁর বক্তব্য, তিনি নিজে অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য বিদ্যালয়ের মুসলিম ধর্মীয় শিক্ষক জাকির হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন। শুধু দায়িত্ব দিয়েই থেমে থাকেননি, অনুষ্ঠানের জন্য এক হাজার টাকাও দিয়েছিলেন বলে দাবি তাঁর। ফলে অনুষ্ঠান না হয়ে থাকলে তার কারণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, কিন্তু সরাসরি তাঁকেই অনুষ্ঠান বন্ধ করার জন্য দায়ী করা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যেও ভিন্নমত সামনে এসেছে। (Faridpur)তাঁদের একাংশের দাবি, প্রধান শিক্ষক কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠান বন্ধ করার চেষ্টা করেননি। বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব অথবা দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে যদি অনুষ্ঠানটি না হয়ে থাকে, তাহলে তার সম্পূর্ণ দায় প্রধান শিক্ষকের উপর চাপানো হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। স্থানীয় কয়েকজন সচেতন নাগরিকের অভিযোগ, বিষয়টিকে ধর্মীয় রং দিয়ে প্রধান শিক্ষককে ব্যক্তিগত বা অন্য কোনও কারণে হেনস্থা করার চেষ্টা হতে পারে।
এদিকে, বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। অভিযোগ, বিক্ষোভ চলাকালীন উস্কানিমূলক বক্তব্য এবং প্রধান শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় স্থানীয় স্তরে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ভাঙ্গা উপজেলার শিক্ষা প্রশাসন। (Faridpur)উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদ্যালয়ের সভাপতি তথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দায়িত্ব রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
