মধ্যরাতে মেমারি হাসপাতালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সারপ্রাইজ ভিজিট! অব্যবহৃত সরঞ্জাম দেখেই ধমক

বর্ধমান: সরকারি হাসপাতালগুলির প্রকৃত অবস্থা নিজের চোখে দেখতে রীতিমতো ময়দানে নেমে পড়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার রাতে তাঁর গন্তব্য ছিল পূর্ব…

বর্ধমান: সরকারি হাসপাতালগুলির প্রকৃত অবস্থা নিজের চোখে দেখতে রীতিমতো ময়দানে নেমে পড়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবার রাতে তাঁর গন্তব্য ছিল পূর্ব বর্ধমান। এদিন গভীর রাতে মেমারি হাসপাতালে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে চরম ক্ষুব্ধ হন তিনি। রোগীদের চিকিৎসার জন্য বরাদ্দ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নতুন শয্যা, সবকিছু অব্যবহৃত পড়ে থাকতে দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী।

Advertisements

আগের দিনই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও শক্তিগড়ের বড়শুল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঝটিকা সফরে গিয়েছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিকাঠামো ও মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি স্পষ্ট করেছিলেন, তাঁর এই আচমকা পরিদর্শন চলতেই থাকবে। সেই কথা রেখেই শুক্রবার প্রথমে জামালপুর এবং পরে সোজা মেমারি হাসপাতালে হাজির হন তিনি।

   

হাসপাতালে পা রেখেই নিজের ঘরে না বসে সোজা ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরতে শুরু করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। চারপাশের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও ডাঁই হয়ে থাকা আবর্জনা দেখে তীব্র উষ্মাপ্রকাশ করেন। এরপর তাঁর নজরে আসে সরকারি টাকায় কেনা চিকিৎসা সরঞ্জাম অবহেলায় পড়ে থাকার দৃশ্য। তিনি দেখতে পান, রোগীদের জন্য আনা অন্তত পঞ্চাশটি নতুন বিছানার প্যাকেট পর্যন্ত খোলা হয়নি। একই অবস্থা ক্রাশ ট্রলি, ওটি টেবিল থেকে শুরু করে রেফ্রিজারেটরের মতো গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতিরও। এমনকি হাসপাতালের দু’টি সম্পূর্ণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) তলাও পড়ে রয়েছে অব্যবহৃত অবস্থায়।

এই চরম গাফিলতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনও সাফাই বা কৈফিয়তই শুনতে চাননি মন্ত্রী। সরকারি পরিকাঠামো ব্যবহার না হওয়ার পিছনে অনেক সময়ই স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবের অজুহাত দেওয়া হয়। এদিন সেই যুক্তিও কড়া হাতে উড়িয়ে দেন ডঃ মুখোপাধ্যায়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, তিনি নিজে হিসেব কষে দেখেছেন হাসপাতালে যথেষ্ট সংখ্যক কর্মী মজুত রয়েছেন। তাই লোকবলের অভাবের তত্ত্ব দেখিয়ে পার পাওয়া যাবে না।

Advertisements

পরিষেবা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশ্নে যে বিন্দুমাত্র আপস করা হবে না, তা এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। যাওয়ার আগে তাঁর কড়া হুঁশিয়ারি, রাজ্য সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি করে দিচ্ছে, অথচ সেই সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছবে না, এমন চূড়ান্ত অব্যবস্থা তিনি কিছুতেই মেনে নেবেন না। দ্রুত এই পরিকাঠামোগুলিকে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার কড়া নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন তিনি।

মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?

বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা

Advertisements