নয়াদিল্লি: কার্গিলের একটি চেকপোস্টে এক মহিলা পর্যটকের ‘উই আর জেন-জি, উই ওন’ট টলারেট দিস ননসেন্স’ (We are Gen-Z and we won’t tolerate this nonsense) মন্তব্যকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যে এবার মুখ খুললেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল ডি পি পাণ্ডে। তাঁর অভিযোগ, ওই পর্যটকের আচরণ তরুণ প্রজন্মকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি কাশ্মীরিদের সঙ্গে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছে।
কাশ্মীর-ভিত্তিক ১৫ কোরের প্রাক্তন কমান্ডার পাণ্ডে এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, লাদাখে ওই মহিলার তৈরি করা পরিস্থিতির কারণে এমন কিছু ক্ষতি হয়েছে, যার কথা দেশের মানুষের জানা উচিত। তিনি বলেন, ওই মহিলাকে অপমান করার উদ্দেশ্য তাঁর নেই। তবে তাঁর আচরণে জেন-জি সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সিয়াচেনে এক মাস কাজের বেতন দেওয়ার প্রস্তাব
পর্যটকের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে আপত্তির প্রসঙ্গ টেনে পাণ্ডে বলেন, ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কিছু বিধিনিষেধ জারি করতে হয়। সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনী নিজেদের ইচ্ছায় এই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে না বলেও তিনি ইঙ্গিত করেন। এরপরই কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ওই পর্যটককে সিয়াচেন বা একই ধরনের কোনও কঠিন এলাকায় এক মাস কাজ করার সুযোগ দিতে তাঁর বেতন ক্রাউডফান্ড করতে তিনি আগ্রহী। পাণ্ডের বক্তব্য, “Would love to crowd fund a month salary for her to serve in Siachen…”
তিনি আরও বলেন, কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিকরাও কর দেন এবং দেশের ব্যবস্থায় তাঁদের অবদান রয়েছে।
‘জেন-জিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন’
পাণ্ডের মতে, ওই পর্যটক নিজের বক্তব্যে জেন-জির প্রসঙ্গ টেনে পুরো প্রজন্মকেই নেতিবাচকভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, নিজের অভিজ্ঞতায় তিনি বহু তরুণ-তরুণীর সঙ্গে দেখা করেছেন, যারা ধৈর্যশীল, ভদ্র, শ্রদ্ধাশীল এবং ভালো আচরণ করেন। কিন্তু ওই মহিলার আচরণ জেন-জিকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। নিরাপত্তাকর্মীদের আচরণেরও প্রশংসা করেন পাণ্ডে। তাঁর মতে, পরিস্থিতির মধ্যেও নিরাপত্তাকর্মী এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন আধিকারিক যথেষ্ট ভদ্রভাবে বিষয়টি সামলেছিলেন।
কাশ্মীরিদের সঙ্গে বিভাজন তৈরির অভিযোগ
পাণ্ডে আরও বলেন, কাশ্মীরিদের আলাদা করে দেখার বা তাঁদের সঙ্গে বিভাজন তৈরির কোনও চেষ্টা করা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য, কাশ্মীরিরাও ভারতের সমান নাগরিক এবং তাঁদেরও নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়।
Don’t want to shame a lady who created scene in Ladakh. She did few damages that our country should know.
Tried to create a divide with Kashmiris who are equal partner and citizens of India and had to go through the challenges of security checks. No government or security force…— Lt Gen DP Pandey (@LtGenDPPandey) August 19, 2026
কার্গিলের চেকপোস্টে কী ঘটেছিল?
জুলাই ২৫ তারিখে কার্গিলের মিনিমার্গ চেকপোস্টে ওই ঘটনার সূত্রপাত। একটি ভিডিওতে এক মহিলা পর্যটককে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে তর্ক করতে এবং চলাচলের উপর জারি করা বিধিনিষেধ নিয়ে আপত্তি জানাতে দেখা যায়। ঘটনার সময় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং এবং সেনাপ্রধান জেনারেল ধীরজ শেঠ কার্গিলে ছিলেন। কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতে তাঁরা ওই অঞ্চলে গিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রের দাবি, খারাপ আবহাওয়ার কারণে দুই শীর্ষ আধিকারিককে হেলিকপ্টারে গুমরিতে নিয়ে যাওয়ার পর সেখান থেকে সড়কপথে কার্গিলের দিকে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। তাঁদের যাতায়াতের সুবিধার জন্য জোজিলা-গুমরি রুটে সাময়িকভাবে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছিল।
ভিআইপি কনভয় ওই এলাকা পার হয়ে যাওয়ার পর পর্যটকদের ফের যেতে দেওয়া হয়। পুলিশ আরও জানিয়েছে, ওই মহিলা পর্যটকের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করা হয়নি।
ওমর আবদুল্লাহও প্রতিক্রিয়া জানান
ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও ওই পর্যটকের ‘উই আর জেন-জি’ মন্তব্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি মন্তব্য করেন, কারও সঙ্গে বিবাদে নিজের প্রভাব বা প্রজন্মের পরিচয়কে হুমকির মতো ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এই ধরনের বক্তব্য অনেকটা পুরনো ‘জানতে পারো না আমার বাবা কে’ ধরনের মানসিকতার নতুন সংস্করণ হয়ে উঠেছে।
