পাক ঘাঁটিতে চিন-তুরস্কের টানা ৬০ ঘণ্টার সামরিক ‘এয়ারলিফ্ট’, সতর্ক দিল্লি

ইসলামাবাদ/নয়াদিল্লি: চিন এবং তুরস্ক থেকে আচমকাই পাকিস্তানে সামরিক বিমান চলাচলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। আর এই ঘটনা ঘিরেই এবার ইসলামাবাদে নতুন করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম…

ইসলামাবাদ/নয়াদিল্লি: চিন এবং তুরস্ক থেকে আচমকাই পাকিস্তানে সামরিক বিমান চলাচলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গিয়েছে। আর এই ঘটনা ঘিরেই এবার ইসলামাবাদে নতুন করে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বা অস্ত্র সরবরাহের জোরালো জল্পনা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলির গোপন সূত্র উদ্ধৃত করে জানা গিয়েছে, গত প্রায় ৬০ ঘণ্টা ধরে পাকিস্তানের বিভিন্ন বায়ুসেনা ঘাঁটিতে লাগাতার ওঠানামা করেছে চিন ও তুরস্কের ভারী সামরিক পরিবহণ বিমান (Military Transport Aircraft)।

Advertisements

কোথায় নেমেছে এই বিমানগুলি?

এক শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিকের মতে, চিনা সামরিক বিমানগুলিকে রাওয়ালপিন্ডির কাছে পাকিস্তানের নুর খান (Nur Khan) বায়ুসেনা ঘাঁটি এবং করাচির মাসরুর (Masroor) বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করতে দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি তুরস্কের সামরিক বিমানও এই তৎপরতায় অংশ নিয়েছে। সূত্রের দাবি, ড্রোন এবং অন্যান্য প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পরিবহণের জন্যই এই বিমানগুলি ব্যবহার করা হয়েছে।

   

চিন ও তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক সখ্য

পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ড্রোনের জন্য চিনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। গত বছর ভারত-পাকিস্তান সামরিক উত্তেজনার সময় চিনের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির কর্মীরা যে পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিল, তা বেজিং নিজেও স্বীকার করেছে।

অন্যদিকে, সম্প্রতি পাকিস্তানের অন্যতম প্রধান প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে তুরস্ক। বিশেষত ড্রোন, নৌ-ব্যবস্থা এবং এরোস্পেস প্রযুক্তিতে তারা ইসলামাবাদকে সাহায্য করছে। চলতি মাসের শুরুতেই তুরস্কের ‘কান’ (KAAN) পঞ্চম প্রজন্মের ফাইটার জেট তৈরিতে পাকিস্তান ও তুরস্ক হাত মিলিয়েছে। আঙ্কারা জানিয়েছে, প্রায় ২০০ জন পাকিস্তানি ইঞ্জিনিয়ার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে কাজ করছেন।

Advertisements

‘মক্কা চুক্তি’ ও নতুন সমীকরণ

গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (Mecca Joint Defence Agreement) স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত হলো, এই তিনটি দেশের মধ্যে কোনও একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা বলে গণ্য করা হবে। যদিও আধিকারিকদের দাবি এটি একটি আত্মরক্ষামূলক চুক্তি। ঠিক এর পরেই এই সামরিক বিমানে অস্ত্র বা ড্রোনের সম্ভাব্য সরবরাহ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ভারতের জন্য কেন এটি উদ্বেগের?

গত কয়েক বছরে পাকিস্তান চিনা এবং তুর্কি চালকবিহীন ড্রোনের ব্যবহার অনেকটাই বাড়িয়েছে। টানা ৬০ ঘণ্টা ধরে ভারী সামরিক বিমানের এই যাতায়াত রুটিন ট্রাফিকের বদলে লজিস্টিক্যাল সরবরাহের দিকেই ইঙ্গিত করছে। ভারত সবসময়েই প্রতিবেশী দেশের সামরিক পদক্ষেপের ওপর কড়া নজর রাখে। তাই পাকিস্তান যেভাবে চিন ও তুরস্কের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের সামরিক পরিকাঠামো উন্নত করছে, তা নয়াদিল্লির কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইটের বদলে পাটকেল! দিল্লিতে পাক হাই কমিশনের বাইরের ব্যারিকেড সরাল ভারত

শুধু ইঞ্জিনিয়ার নয়, এবার ডাক্তারও গড়বে আইআইটি মাদ্রাজ!

Advertisements