নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলোকে (Youth campaign)এক মাসব্যাপী বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন। ‘ব্যাংকিং ফর ইয়ুথ’ নামের এই ক্যাম্পেইন শুরু হবে আগামী ২ অক্টোবর ২০২৬, গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে। এর মূল লক্ষ্য হল ১৬ বছরের বেশি বয়সী তরুণ-তরুণীদের আর্থিক সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং তাদের ব্যাংকিং, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা হওয়া ও সম্পদ সৃষ্টির সঙ্গে যুক্ত করা।
পিএসবি কনফ্লুয়েন্স ২০২৬-এর সমাপনী ভাষণে অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাব দেন। (Youth campaign)তিনি বলেন, তরুণরা যখন তাদের আর্থিক যাত্রা শুরু করে, তখনই তাদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক গড়ে তোলা দরকার। শুধু অ্যাকাউন্ট খুলে দেওয়া নয়, ক্যাম্পাস থেকে ক্যারিয়ার এবং তার পরবর্তী জীবন পর্যন্ত ব্যাংকগুলো তাদের পাশে থাকবে। পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলোকে তরুণদের প্রথম ও সবচেয়ে বিশ্বস্ত পছন্দ হয়ে উঠতে হবে।
আরও দেখুনঃ মিশন মোডে শিক্ষামন্ত্রী! প্রহ্লাদের হস্তক্ষেপে NTA থেকে সরানো হল ৬০০ পরীক্ষককে
তারা যখন প্রথম অ্যাকাউন্ট খোলে, প্রথম বেতন পায়, উচ্চ শিক্ষা নেয়, ব্যবসা শুরু করে বা প্রথম বিনিয়োগ করে সেই সব পর্যায়ে ব্যাংক তাদের সঙ্গে থাকবে।প্রচারাভিযানটি ডিপার্টমেন্ট অব ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস এবং ইন্ডিয়ান ব্যাংকস অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বয়ে পরিচালিত হতে পারে। ব্যাংকগুলোকে শাখায় অপেক্ষা না করে সরাসরি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার এবং অন্যান্য ক্যাম্পাসে যেতে বলা হয়েছে।
সেখানে অ্যাকাউন্ট খোলা, (Youth campaign)আর্থিক সচেতনতা কর্মসূচি এবং সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হবে। শাখায় ‘যুব কিয়স্ক’ বা ‘যুব ব্যাংকিং মিত্র’ নামে বিশেষ কাউন্টার তৈরির পরামর্শও দেওয়া হয়েছে, যেখানে একজন নিবেদিত কর্মী তরুণ গ্রাহকদের আর্থিক যাত্রায় সাহায্য করবেন।অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, তরুণদের ক্রেডিট স্কোর, ব্যাংক ঋণ পণ্য এবং সরকারি ঋণ প্রকল্প সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।
ভালো ক্রেডিট স্কোর ও ইতিহাস বজায় রাখার গুরুত্ব বোঝাতে হবে, যাতে তারা ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা হিসেবে সহজে অর্থায়ন পেতে পারে। ব্যাংকগুলোকে আরও ‘কুল’ হতে হবে, যাতে জেন জি প্রজন্ম তাদের আকর্ষণীয় মনে করে। ফিটনেস সেন্টার, যোগা কেন্দ্র বা মানসিক স্বাস্থ্য প্ল্যাটফর্মের কুপন-ভাউচারের মতো জীবনধারা সংশ্লিষ্ট সুবিধা যোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।ভারতের তরুণ জনসংখ্যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের মূল চালিকাশক্তি।
আরও দেখুনঃ তেজস থেকে সুখোই: যন্ত্রাংশ দেশীয়করণে কেন এত জোর ভারতের?
তাদের আর্থিক সাক্ষরতা বাড়ালে সঞ্চয় বাড়বে, (Youth campaign)বিনিয়োগ বাড়বে এবং উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতাও বাড়বে। ইউপিআই লেনদেনের বড় অংশই তরুণরা করে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাবলিক সেক্টর ব্যাংকগুলোকে ডিজিটাল ও ব্যক্তিগত সেবা আরও সহজ ও আকর্ষণীয় করতে হবে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, তরুণরা স্মার্টফোন নিয়ে বড় হয়েছে, তাই ওয়েব ও মোবাইল-ফ্রেন্ডলি পোর্টাল তৈরি করে ব্যাংকিং সচেতনতা বাড়ানো যায়।
