দেশে ফাঁসির সাজাই বহাল! ‘কম যন্ত্রণাদায়ক’ বিকল্পের আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি হিসেবে ‘ফাঁসি’-র অবলুপ্তি চেয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট করে…

নয়াদিল্লি: মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পদ্ধতি হিসেবে ‘ফাঁসি’-র অবলুপ্তি চেয়ে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলা (PIL) খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছে, ফাঁসির বদলে অন্য কোনও পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করলে অপরাধীর কষ্ট বা যন্ত্রণা লাঘব হবে কি না এবং তার সম্মান বজায় থাকবে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ স্বাধীন।

Advertisements

কী জানাল শীর্ষ আদালত?
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং বিচারপতি সন্দীপ মেহতার বেঞ্চ এই রায়দান করে। ফৌজদারি কার্যবিধির (CrPC) ৩৫৪(৫) ধারার সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলা দায়ের হয়েছিল, যেখানে বলা রয়েছে “মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত আসামিকে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।” শীর্ষ আদালত এই মামলা খারিজ করলেও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে জোরালো কোনও বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রমাণ সামনে এলে ফাঁসির পদ্ধতির সাংবিধানিক পুনর্বিবেচনার পথ খোলা রইল। পাশাপাশি, যন্ত্রণাহীন বিকল্প পদ্ধতির খোঁজে কেন্দ্র চাইলে বিশেষজ্ঞ কমিটিও গড়তে পারে।

   

মামলাকারীর যুক্তি কী ছিল?
বর্ষীয়ান আইনজীবী ঋষি মালহোত্রা এই জনস্বার্থ মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যু অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক, অমানবিক এবং নিষ্ঠুর। একজন আসামির মৃত্যু হতে এতে ৪০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এর বদলে প্রাণঘাতী ইনজেকশন (Lethal Injection), ফায়ারিং স্কোয়াড, ইলেক্ট্রিক শক বা গ্যাস চেম্বারের মতো পদ্ধতির দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মতে, ইনজেকশন দিলে মাত্র ৫ মিনিটেই মৃত্যু সম্ভব। সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ‘সম্মানজনক মৃত্যু’-র অধিকারেরও উল্লেখ করেন তিনি।

কেন্দ্রের অবস্থান ও ইনজেকশন নিয়ে সংশয়:
অ্যাটর্নি জেনারেল আর. বেঙ্কটরমণি আদালতকে জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আরও ভালো বিকল্প রয়েছে কি না, তা দেখতে ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ স্তরে বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রয়োজনে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনাও চলছে।

Advertisements

তবে শুনানিতে প্রাণঘাতী ইনজেকশন দেওয়ার পদ্ধতির বিরোধিতা করে ‘প্রজেক্ট ৩৯এ’ (Project 39A) নামক এক সংস্থা। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে জানায়, প্রাণঘাতী ইনজেকশনের পদ্ধতি সবসময় সফল হয়নি। অন্যদিকে, বিচারপতি সন্দীপ মেহতা ফাঁসুড়েদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কাউকে দিনের পর দিন ফাঁসি দেওয়ার কাজ করলে একজন জল্লাদ বা ফাঁসুড়ের মনের ওপর তার গভীর মানসিক প্রভাব পড়ে। সব পক্ষের সওয়াল জবাব শেষে জানুয়ারি মাসেই এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিল সুপ্রিম কোর্ট, যা মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এল।

বাড়ি সংক্রান্ত নথি তলব! আজই পুরসভার দফতরে যেতে পারেন অভিষেকের বাবা

জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,

Advertisements