EV , CNG ও হাইড্রোজেন গাড়ির বয়সসীমা বাড়ছে ৫ বছর, কেন্দ্রের প্রস্তাব

নয়াদিল্লি: বৈদ্যুতিক, হাইড্রোজেন ও প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত (EV – CNG – Hydrogen Vehicles)  বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পারমিটের অধীনে বয়সসীমা আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিল…

ev-cng-hydrogen-commercial-vehicle-age-limit-extension-5-years ev-cng-hydrogen-commercial-vehicle-age-limit-extension-5-years

নয়াদিল্লি: বৈদ্যুতিক, হাইড্রোজেন ও প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত (EV – CNG – Hydrogen Vehicles)  বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে জাতীয় পারমিটের অধীনে বয়সসীমা আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব দিল কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রক বা মোআরটিএইচ কেন্দ্রীয় মোটরযান বিধি, ১৯৮৯ সংশোধনের খসড়ায় এই প্রস্তাব রেখেছে। পাশাপাশি জাতীয় পারমিটের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার এবং এর বড় অংশ অনলাইনে নিয়ে আসার পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

Advertisements

প্রস্তাবিত সংশোধনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি রয়েছে বিধি ৮৮-তে। জাতীয় পারমিট ব্যবস্থার আওতায় থাকা গাড়ির বয়সসীমা নির্ধারণ করে এই বিধি। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ব্যাটারিচালিত, হাইড্রোজেন জ্বালানিচালিত এবং প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত বাণিজ্যিক গাড়ির ক্ষেত্রে বর্তমান বয়সসীমার সঙ্গে অতিরিক্ত পাঁচ বছর যোগ হবে।

   

অর্থাৎ, বর্তমানে যে গাড়ির জন্য ১২ বছর এবং ১৫ বছর পর্যন্ত বয়সসীমা প্রযোজ্য, সংশোধন কার্যকর হলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে তা বেড়ে যথাক্রমে ১৭ বছর এবং ২০ বছর হতে পারে। তবে সব ধরনের বাণিজ্যিক গাড়ির জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না। জাতীয় পারমিট ব্যবস্থার অধীনে বিধি ৮৮-র আওতায় থাকা নির্দিষ্ট পরিচ্ছন্ন জ্বালানিচালিত গাড়িগুলিই এই সুবিধা পাবে।

সরকারের এই উদ্যোগের পিছনে অন্যতম লক্ষ্য হল বাণিজ্যিক পরিবহণে তুলনামূলক পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ট্রাকের ক্ষেত্রে প্রাথমিক বিনিয়োগের পরিমাণ এখনও প্রচলিত গাড়ির তুলনায় বেশি। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে গাড়ি চালানোর সুযোগ পেলে পরিবহণ সংস্থাগুলি অতিরিক্ত প্রাথমিক খরচ দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisements

২০২৫ সালের নীতি আয়োগের বৈদ্যুতিক গাড়ি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গিয়েছিল, ভারতে বৈদ্যুতিক ট্রাকের ব্যবহার এখনও সীমিত। ২০২৪ সালে দেশে মাত্র ৬,২২০টি বৈদ্যুতিক ট্রাক বিক্রি হয়েছিল। এর মধ্যে ৩.৫ টনের বেশি ওজনের ট্রাক ছিল মাত্র ২৮০টি। উচ্চ প্রাথমিক মূল্য এবং অর্থায়নের সীমাবদ্ধতাকে বৈদ্যুতিক ট্রাক গ্রহণের ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

পাঁচ বছর পর্যন্ত জাতীয় পারমিটের অনুমোদন

জাতীয় পারমিট ব্যবস্থাতেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। বর্তমানে অনুমোদন নবীকরণের ক্ষেত্রে যে বার্ষিক প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটিকে আরও নমনীয় করতে চাইছে মন্ত্রক। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে অপারেটররা একসঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য জাতীয় পারমিটের অনুমোদন নিতে পারবেন। এর জন্য প্রতি বছরের নির্ধারিত ফি থাকবে ১৬,৫০০ টাকা। ফলে পাঁচ বছরের অনুমোদনের ক্ষেত্রে মোট খরচ হবে ৮২,৫০০ টাকা। আবেদন প্রক্রিয়াটিও আরও বেশি ডিজিটাল করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফর্ম ৪৬-এর আবেদন এবং ফর্ম ৪৭-এর অনুমোদন ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা যাবে। ইলেকট্রনিক পেমেন্টের রসিদও গ্রহণযোগ্য হবে।

বাহন ব্যবস্থায় কমবে কাগজপত্র

খসড়া সংশোধনে বাহন তথ্যভান্ডারের ব্যবহার আরও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। ফর্ম ১৬, ৪৬ এবং ৪৮-এ প্রয়োজনীয় বেশ কিছু তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বা গাড়ির নথিভুক্তির তথ্য দেওয়ার পর সরাসরি বাহন পোর্টাল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ করা যেতে পারে। এর ফলে আবেদনকারীদের হাতে থাকা তথ্যের একটি বড় অংশ নতুন করে পূরণ করতে হবে না। বাহন ব্যবস্থায় যে তথ্য আগে থেকেই রয়েছে, তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়ে যাবে। এতে সময় এবং কাগজপত্র দুটোই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

অস্থায়ী নথিভুক্তির নিয়মেও বদল

খসড়ায় অস্থায়ী নথিভুক্তির মেয়াদ নিয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। দেহ বা বডি ছাড়া থাকা একটি গাড়ির চ্যাসিসের ক্ষেত্রে অস্থায়ী নথিভুক্তির বৈধতা ছয় মাস পর্যন্ত করা হবে। ছয় মাসের পরও যদি চ্যাসিসটি বডি তৈরির জন্য ওয়ার্কশপে থাকে, অথবা মালিকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে কাজ সম্পূর্ণ না হয়, তাহলে আবেদন এবং নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরে নথিভুক্তি কর্তৃপক্ষ একবারে ৩০ দিন করে মেয়াদ বাড়াতে পারবে। সম্পূর্ণ তৈরি গাড়ির ক্ষেত্রে, সেটিকে বিশেষভাবে পরিবর্তিত গাড়িতে রূপান্তর করা হলে অথবা ডিলারের রাজ্যের পরিবর্তে অন্য রাজ্যে নথিভুক্ত করা হলে অস্থায়ী নথিভুক্তির বৈধতা ৪৫ দিন পর্যন্ত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

গাড়ির নথিতে আরও তথ্য যুক্ত হবে

নতুন ব্যবস্থায় গাড়ির নথিভুক্তির ফর্মেও অতিরিক্ত তথ্য নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। ফর্ম ২০-তে গাড়ির মালিকের আধার-সংযুক্ত মোবাইল নম্বর দিতে হবে। ঋণ বা বন্ধক সংক্রান্ত ক্ষেত্রে চুক্তি নম্বর অথবা ঋণ হিসাব নম্বরও উল্লেখ করতে হবে। অন্যদিকে ফর্ম ৪৮-এ গাড়ির বৈধ নথিভুক্তি শংসাপত্র, বিমা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ শংসাপত্র এবং ফিটনেস শংসাপত্রের তথ্যের পাশাপাশি বকেয়া চালানের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। কোনও গাড়ির আগে জাতীয় পারমিট থাকলে তার তথ্যও সেখানে উল্লেখ করা হবে।

এছাড়া যোগ্য গাড়ির যন্ত্রাংশ প্রস্তুতকারকদের ট্রেড সার্টিফিকেট ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রস্তাব দিয়েছে মোআরটিএইচ। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে শিল্প গবেষণা ও উন্নয়ন দফতরের অনুমোদিত হতে হবে এবং গাড়ি শিল্পের জন্য নতুন পণ্য তৈরির গবেষণা ও উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। খসড়া সংশোধন নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপত্তি ও পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। সেই মতামত পর্যালোচনার পরই চূড়ান্ত নিয়ম কার্যকর করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Advertisements