কলকাতা: নেতাজিকে (Netaji)নিয়ে সম্প্রতি শুরু হয়েছে বিতর্ক। বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজের একাধিক বিতর্কিত বক্তব্য এবং ভাষণে উত্তাল হয়েছে বাংলা তথা সারা দেশ। নেতাজিকে নিয়ে কটূক্তিতে রাগে ফুঁসছে নেতাজি প্রেমীরা। সংসদে দাঁড়িয়ে রীতিমত আইন পাস করে নেতাজি অবমাননার জবাব দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। এই আবহেই বিশিষ্ঠ লেখন এবং নেতাজি গবেষক চন্দ্রচূড় ঘোষের গবেষণার উপর ভিত্তি করে তৈরী হচ্ছে নতুন সিরিজ। সিরিজের মূল বিষয় নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য। এবার সেই রহস্যের পর্দাফাঁস হবে সমাজ মাধ্যমে।
১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের মধ্যরাতে এই ঐতিহাসিক থ্রিলার সিরিজের মুক্তি ঘটে। (Netaji)এলোএলো গ্রুপের এই প্ল্যাটফর্মে সিরিজটি হিন্দি, তামিল ও তেলেগু ভাষায় উপলব্ধ।এটি কোনো সাধারণ বায়োপিক নয়। সিরিজটি নেতাজির ১৯৪১ সালের সেই বিখ্যাত পলায়ন এবং তার রহস্যজনক অন্তৰ্ধানকে কেন্দ্র করে তৈরি। ব্রিটিশ নজরদারি এড়িয়ে কলকাতার গৃহবন্দিদশা থেকে বেরিয়ে আফগানিস্তান হয়ে ইউরোপ পর্যন্ত প্রায় নয় হাজার কিলোমিটারের বিপজ্জনক যাত্রা।
আরও দেখুনঃ এয়ার ইন্ডিয়ার ড্রাগ টেস্টে ‘ফেল’ ২ পাইলট
চারটি ভিন্ন পরিচয় নিয়ে সেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ভারতের স্বাধীনতার জন্য নিজস্ব সেনাবাহিনী গঠনের চেষ্টা এই গল্পকেই থ্রিলারের ছোঁয়ায় উপস্থাপন করা হয়েছে। (Netaji)কেন্দ্রীয় চরিত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন অভিজ্ঞ অভিনেতা জয় সেনগুপ্ত। তাঁর অভিনয়কে ঘিরে ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিচালনা ও চিত্রনাট্যে রয়েছেন ললিত মারাঠে, যিনি একসময় ‘স্বদেশ’ সিনেমার অন্যতম লেখক ছিলেন।
চিত্রগ্রহণ করেছেন সুদীপ সেনগুপ্ত। নির্বাহী প্রযোজনায় রয়েছে জার পিকচার্স।সিরিজটির বিশেষত্ব হলো এর গবেষণাভিত্তিক ভিত্তি। প্রখ্যাত গবেষক ও লেখক চন্দ্রচূড় ঘোষের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও বইয়ের ওপর ভিত্তি করে এটি নির্মিত। চন্দ্রচূড় ঘোষ নেতাজির জীবন, ফাইল ডিক্লাসিফিকেশন এবং অন্তর্ধানের রহস্য নিয়ে বহু বছর ধরে কাজ করে আসছেন। তাঁর গবেষণা থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও আর্কাইভাল উপকরণ ব্যবহার করে সিরিজের কাহিনি গড়ে তোলা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ফের অশান্ত যন্তরমন্তর! এবার দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবিতে ধর্নায় ভারতীয় মজদুর সংঘ
আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো প্রযুক্তির ব্যবহার। (Netaji)এটি ভারতের প্রথম হাইব্রিড এআই চালিত ভার্টিক্যাল ড্রামা সিরিজ। AI প্রযুক্তির সাহায্যে ১৯৪০-এর দশকের কলকাতা, কাবুল, বার্লিন এবং সাবমেরিনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। পোস্ট-প্রোডাকশনে এলোএলোর AI দক্ষতা কাজে লাগিয়ে ঐতিহাসিক আবহ তৈরি করা হয়েছে, যা ভার্টিক্যাল স্ক্রিনের জন্য নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে।
সিরিজটি শুধু পলায়নের গল্প বলে না। নেতাজির সিদ্ধান্ত, তাঁর সঙ্গীদের ভূমিকা এবং সেই সময়ের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকেও ছুঁয়ে যায়। ১৯৪১ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে পরবর্তী বছরগুলোর ঘটনাবলি এখানে স্থান পেয়েছে। গোপনে রেডিও সম্প্রচার, সাবমেরিন যাত্রা, নির্বাসিত সরকার গঠন এসব বিষয়কে থ্রিলারের ছন্দে সাজানো হয়েছে।
নেতাজির অন্তর্ধান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও গবেষণা চলে আসছে। চন্দ্রচূড় ঘোষের কাজ সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এই সিরিজ সেই গবেষণাকে বৃহত্তর দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস। মাইক্রোড্রামা ফরম্যাটে হওয়ায় এটি ছোট ছোট পর্বে সাজানো, যা মোবাইল স্ক্রিনে দেখার উপযোগী।
