Vande Bharat Freight Train Trial Run: একটি অতি-দ্রুত পার্সেল পরিষেবা চালুর পথ প্রশস্ত হচ্ছে। ভারতের প্রথম বন্দে ভারত মালবাহী ট্রেন সফলভাবে পরীক্ষামূলক যাত্রা সম্পন্ন করেছে। পশ্চিম মধ্য রেলওয়ের (WCR) কোটা-রোহাল খুর্দ সেকশনে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিতে এই পরীক্ষাটি চালানো হয়। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চ গতিতে পার্সেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে ট্রেনটি কতটা সক্ষম, তা যাচাই করে দেখছে ভারতীয় রেল।
এই কারিগরি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমটি ‘রিসার্চ ডিজাইনস অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অর্গানাইজেশন’ (RDSO) এবং ‘ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি’ (ICF)-এর দলগুলোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়েছিল। রেলওয়ে কর্মকর্তারা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা—যেমন রিজেনারেটিভ এনার্জি (পুনরুৎপাদনযোগ্য শক্তি), তাপীয় সক্ষমতা, ট্র্যাকশন, ব্রেকিং-এর কার্যকারিতা এবং ভারবহন অবস্থায় ঝাঁকুনির মাত্রা—পর্যালোচনা ও পরীক্ষা করে দেখেন।
পরীক্ষামূলক চলাচলের সময় কী কী বিষয় পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল?
কোটা ডিভিশনের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার সৌরভ জৈনের মতে, ‘রিজেনারেটিভ এনার্জি টেস্ট’-এর মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল যে ব্রেক করার সময় ট্রেনটি কতটা দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুৎ (বৈদ্যুতিক শক্তি) উৎপাদন করতে পারে। অন্যদিকে, ‘থার্মাল ক্যাপাসিটি টেস্ট’-এর মাধ্যমে উচ্চ গতিতে ট্রেনটির বৈদ্যুতিক ও প্রপালশন (চালিকাশক্তি) ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
ট্র্যাকশন ও ব্রেকিং পরীক্ষাগুলোতে ট্রেনটির ভার বহনের ও থামার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। অন্যদিকে, ‘জার্ক টেস্ট’-এর মাধ্যমে দেখা হয়েছে যে, ভার বহনকারী অবস্থায় ট্রেনটি কতটা মসৃণভাবে গতি বাড়াতে ও কমাতে পারে।
এই ট্রেনটি তৈরির উদ্দেশ্য কী?
বন্দে ভারত সিরিজের আদলে তৈরি ১৬-কোচের এই ফ্রেইট ইএমইউ (Freight EMU)-টি উচ্চ গতিতে পার্সেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনের উপযোগী করে নকশা করা হয়েছে।
চেন্নাই-ভিত্তিক ইন্টিগ্রাল কোচ ফ্যাক্টরি (ICF)-তে নির্মিত এই ট্রেনটিতে রয়েছে উন্নত প্রপালশন ও ব্রেকিং ব্যবস্থা, সহজে পার্সেল ওঠানোর জন্য বিশেষ রোলার ফ্লোর সিস্টেম, স্বয়ংক্রিয় ও প্রশস্ত স্লাইডিং দরজা এবং তাপমাত্রা-নিয়ন্ত্রিত (রিফার) সুবিধা।
এতে সিসিটিভি নজরদারি ও অগ্নিকাণ্ড শনাক্তকরণ ব্যবস্থাও রয়েছে।
রেলওয়ে মালবাহী ট্রেনের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করছে।
পার্সেল ও লজিস্টিকস পরিবহনের কাজে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে উচ্চ গতিতে ট্রেন ব্যবস্থাগুলো কেমন কাজ করে, তা পর্যবেক্ষণ করাই এই সর্বশেষ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।
রেলওয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “কোটা ডিভিশনে আয়োজিত এই কারিগরি পরীক্ষামূলক যাত্রার উদ্দেশ্য হলো উচ্চ গতিতে ট্রেনটির বিভিন্ন সিস্টেমের কার্যকারিতা, নির্ভরযোগ্যতা ও কর্মক্ষমতা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা। পরীক্ষাটি সফল হলে, ভারতীয় রেলের আওতায় দ্রুততর, নিরাপদ ও সময়ানুবর্তী পার্সেল ও লজিস্টিকস পরিবহনের ক্ষেত্রে এই ট্রেনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।”
