নয়াদিল্লি: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে (Sheikh Hasina)ফেরানো নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও আইনি জটিলতা এখনও অব্যাহত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতের আদালতের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিষয়টি পুরোপুরি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে না ভারত সরকারও জানিয়েছে, প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত অনুরোধ আইনি প্রক্রিয়া ও প্রযোজ্য নিয়ম মেনেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ (Sheikh Hasina)ইতিমধ্যেই ভারত পেয়েছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, ঢাকার পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধ সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন এবং প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা করছে। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আরও দেখুনঃ গুটখার বিজ্ঞাপন করে বিপদে শাহরুখ-অজয়, টাইগার! নোটিস দিল FDA
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে। ২০১৩ সালে দুই দেশ এই চুক্তি স্বাক্ষর করে এবং ২০১৬ সালে তা সংশোধন করা হয়। চুক্তি অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে এক দেশ অন্য দেশের কাছে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চাইতে পারে। তবে চুক্তি থাকা মানেই যে ভারতকে শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina)অবশ্যই বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে, এমন নয়। প্রত্যর্পণ না করারও একাধিক আইনি ভিত্তি রয়েছে।
এই জায়গাতেই ভারতের আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব সামনে আসে। প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট অপরাধ দুই দেশেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, এবং চুক্তিতে থাকা প্রত্যর্পণ না করার শর্তগুলি খতিয়ে দেখা হয়। বিশেষ করে ‘রাজনৈতিক অপরাধ’ সংক্রান্ত ব্যতিক্রম এবং অভিযোগ ন্যায়বিচারের স্বার্থে যথাযথভাবে করা হয়েছে কি না, সেগুলিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। (Sheikh Hasina)তবে হত্যা, অপহরণ, নির্যাতন এবং সন্ত্রাসবাদের মতো বেশ কিছু অপরাধকে চুক্তিতে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে সহজে গণ্য করার সুযোগ নেই।
আরও দেখুনঃ কলকাতা মেট্রো সম্প্রসারণ হবে ১৩০ কিলোমিটার! জানিয়ে দিল মেট্রো কর্তৃপক্ষ
তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি ‘ভারতের আদালতই একমাত্র এবং সরাসরি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে’ এভাবে বিষয়টিকে সরলীকরণ করা ঠিক নয়। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় ভারতীয় সরকার, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং আইনি ব্যবস্থার একাধিক স্তর জড়িত। (Sheikh Hasina)ভারত সরকারও প্রকাশ্যে বলেছে, বাংলাদেশের অনুরোধটি প্রযোজ্য আইন ও প্রতিষ্ঠিত পদ্ধতি অনুযায়ী পরীক্ষা করা হচ্ছে। তাই সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো দাবিটির মূল বক্তব্য প্রত্যর্পণ একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাবে সঠিক হলেও, আদালতের ভূমিকা নিয়ে অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
এর পাশাপাশি রয়েছে কূটনৈতিক দিক। শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina)ভারত দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অংশীদার হিসেবে দেখেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কও ভবিষ্যতে স্থিতিশীল রাখা নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রত্যর্পণের সিদ্ধান্ত শুধু আইনি নয়, দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত সংবেদনশীল। এর আগে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, প্রত্যর্পণ চুক্তির আইনি শর্ত পূরণের পাশাপাশি ভারতকে তার কৌশলগত ও কূটনৈতিক স্বার্থও বিবেচনা করতে হবে।
