বিলুপ্তির পথে ‘সবুজ পায়রা, বিশ্বে বেঁচে মাত্র ১০০–৫০০ পাখি

কলকাতা: দীর্ঘদিনের শিকার, বনভূমি ধ্বংস ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে টিমর গ্রিন পিজিয়ন (Timor Green Pigeon)। গবেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না হলে…

timor-green-pigeon-extinction-risk-100-500-birds

কলকাতা: দীর্ঘদিনের শিকার, বনভূমি ধ্বংস ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে টিমর গ্রিন পিজিয়ন (Timor Green Pigeon)। গবেষকদের আশঙ্কা, দ্রুত পদক্ষেপ না হলে পৃথিবী থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বিরল এই পাখি।

Advertisements

টিমর গ্রিন পিজিয়ন বা Treron psittaceus এখন বিলুপ্তির অত্যন্ত কাছাকাছি। গবেষকদের অনুমান, গোটা বিশ্বে এই প্রজাতির মাত্র ১০০ থেকে ৫০০টি পাখি বেঁচে রয়েছে। তবে প্রকৃত সংখ্যা এই পরিসরের নিচের দিকেই থাকার সম্ভাবনা বেশি।

   

সম্প্রতি টিমর-লেস্তের মানাতুতো অঞ্চলের দক্ষিণ উপকূলে তিনটি টিমর গ্রিন পিজিয়নের দেখা মেলে। ওই এলাকায় আগে এই প্রজাতির উপস্থিতির নথি ছিল না। গবেষকদের কাছে ঘটনাটি যেমন আশার আলো দেখিয়েছে, তেমনই পাখিটির বর্তমান সংকটের গভীরতাও সামনে এনেছে।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, একসময় টিমর দ্বীপের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকার জঙ্গলে এই পাখির বিচরণ ছিল। বর্তমানে দ্বীপটির আদি বনভূমির ১০ শতাংশেরও কম অবশিষ্ট রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অংশে প্রায় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাওয়ার পর বর্তমানে টিমর-লেস্তের কিছু এলাকায়, বিশেষ করে লাউতেম জেলার বন এবং নিনো কোনিস সান্তানা ন্যাশনাল পার্কে, শেষ কার্যকর জনসংখ্যার অস্তিত্ব রয়েছে।

Advertisements

timor-green-pigeon-extinction-risk-100-500-birds

তবে শুধু বনভূমি কমে যাওয়াই এই পাখির পতনের কারণ নয়। গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্বিচার শিকার পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। টিমর গ্রিন পিজিয়ন দলবদ্ধভাবে ফলধারী গাছে বসে খাবার খায় এবং মানুষের উপস্থিতি বা বন্দুকের শব্দে অনেক সময় পালিয়ে যায় না। এই আচরণ তাদের শিকারিদের কাছে অত্যন্ত সহজ লক্ষ্য করে তুলেছে।

টিমর-লেস্তের পরিবেশবিদ জাফেত পোটেনজো লোপেস ছোটবেলায় নিজের গ্রামে এই শিকারের ভয়াবহতা দেখেছেন। তাঁর দাবি, মাত্র ৩০ মিনিটের একটি শিকারে দুটি গাছ থেকে তাঁর আত্মীয়রা প্রায় ৬০ থেকে ৭০টি টিমর গ্রিন পিজিয়ন মেরেছিলেন। এখন সেই একই এলাকায় তাঁরাই আর পাখিগুলিকে দেখতে পান না।

গবেষকদের একাংশ এই পরিস্থিতিকে ‘functional extinction’ বা কার্যত বিলুপ্তির পর্যায় হিসেবে দেখছেন। এর অর্থ প্রজাতিটি এখনও সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়নি, কিন্তু অবশিষ্ট জনসংখ্যা এতটাই কম ও বিচ্ছিন্ন যে মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া তাদের স্বনির্ভরভাবে টিকে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।

তবে এখনও আশার জায়গা রয়েছে। টিমর-লেস্তের বিভিন্ন স্থানীয় সম্প্রদায়ের নিজস্ব ঐতিহ্যগত সংরক্ষণ ব্যবস্থা রয়েছে। ‘লুলিক’ নামে পরিচিত স্থানীয় প্রথায় কিছু বন, ঝরনা ও উপকূলীয় অঞ্চলকে পবিত্র ও সুরক্ষিত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষকদের মতে, আধুনিক পরিবেশ আইন ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্যগত ব্যবস্থাকে একসঙ্গে কাজে লাগানো গেলে টিমর গ্রিন পিজিয়নকে রক্ষা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সবচেয়ে জরুরি হল শিকার বন্ধ করা। শিক্ষা, আইন প্রয়োগ এবং স্থানীয় মানুষকে সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশীদার করে তোলার মতো একাধিক পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়া প্রয়োজন। গবেষক কলিন ট্রেনরের মতে, এই মুহূর্তে শিকারিদের নিয়ন্ত্রণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

এই পাখিটিকে বিপন্ন থেকে অতি বিপন্ন বা ‘Critically Endangered’ শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রস্তাবও রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, কোনও প্রজাতির সংরক্ষণ-শ্রেণি বদলালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অর্থ বা কার্যকর উদ্যোগ আসে না। তার জন্য সরকার, স্থানীয় সম্প্রদায় ও সংরক্ষণ সংস্থাগুলিকে বাস্তবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

গবেষকদের সতর্কবার্তা স্পষ্ট: দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে টিমর গ্রিন পিজিয়ন পৃথিবী থেকে হারিয়ে যেতে পারে। আর একবার বিলুপ্ত হয়ে গেলে এই প্রজাতিকে ফিরিয়ে আনার কোনও দ্বিতীয় সুযোগ থাকবে না।

Also Read |  NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?

Also Read |  পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Advertisements