শিলিগুড়ি: আরও শক্তিশালী হতে চলেছে শিলিগুড়ি করিডোর। (fourth rail line)কেন্দ্রীয় সরকার এই কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চতুর্থ রেললাইন অনুমোদন দিয়েছে। মালদা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত এই নতুন লাইন বাংলা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংযোগ আরও মজবুত করবে। একই সঙ্গে বিহারের তিনমাই ঘাট থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল-লাইন আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্পও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
শিলিগুড়ি করিডোরকে চিকেনস নেক বলা হয়। এটি মাত্র ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার চওড়া এবং প্রায় ৬০ কিলোমিটার লম্বা। এই সংকীর্ণ ভূখণ্ড দিয়েই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে উত্তর-পূর্বের সাতটি রাজ্য যুক্ত। নিরাপত্তা ও সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সমস্যা হলে পুরো উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ বিঘ্নিত হতে পারে। তাই রেলযাত্রার ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছিল।
আরও দেখুনঃ তামিলনাড়ু বিধানসভায় ডিলিমিটেশনের বিরুদ্ধে ৫৪৩ আসন স্থির রাখার বিল পাস বিজয়ের
নর্থ ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের জেনারেল ম্যানেজার চেতন কুমার শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, মালদা-নিউ জলপাইগুড়ি সেকশনে আগে তৃতীয় লাইনের প্রস্তাব ছিল। (fourth rail line)এখন চতুর্থ লাইনও অনুমোদিত হয়েছে। আন্ডারগ্রাউন্ড প্রকল্পটি নিরাপত্তার দিক থেকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভূগর্ভস্থ লাইন হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো ঝুঁকিতেও যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
বাগডোগরা বিমানবন্দর ও সামরিক এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় এটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করবে।নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনের পুনর্নির্মাণ কাজও দ্রুত এগোচ্ছে। লক্ষ্য রাখা হয়েছে ২০২৭ সালের এপ্রিলের মধ্যে এটি শেষ করার। স্টেশন আধুনিক হলে যাত্রীদের সুবিধা বাড়বে। এনএফআর ইতিমধ্যে ৪২টি নতুন ট্রেন চালু করেছে এবং প্রায় ২৫০টি স্টপেজ যোগ করেছে।
রাধিকাপুর ও বালুরঘাট থেকে স্থানীয় ট্রেন পরিষেবা শুরু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। (fourth rail line)সীমান্তবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে।এই প্রকল্পগুলো শুধু যাত্রী সুবিধার জন্য নয়। পণ্য পরিবহনও দ্রুত হবে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সহজে পৌঁছাবে। অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাড়বে। স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আরও দেখুনঃ প্রোমোটারের থেকে ‘তোলাবাজি’? সাসপেন্ড বিজেপি নেত্রী
শিলিগুড়ি অঞ্চলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হতে পারে। (fourth rail line)তবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে বাস্তবায়নের গতি। অনুমোদন পাওয়া গেছে, কিন্তু কাজ কত দ্রুত শেষ হয় এবং প্রকৃত ক্ষমতা কতটা বাড়ে সেটাই দেখার বিষয়। ভূগর্ভস্থ প্রকল্পে প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ থাকবে। জমি অধিগ্রহণ, পরিবেশগত অনুমোদন এবং নির্মাণের জটিলতা কাটিয়ে উঠতে হবে। সময়মতো সম্পন্ন হলে করিডোরের চেহারা পাল্টে যাবে।
