নয়াদিল্লি: সংসদে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনী বিল নিয়ে নতুন মোড়। (FCRA)লোকসভায় বুধবার এফসিআরএ সংশোধনী বিল ২০২৬-কে যৌথ সংসদীয় কমিটি বা জেপিসির কাছে পাঠানোর প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা ২০২৬ সালের শীতকালীন অধিবেশনের প্রথম সপ্তাহের শেষ দিনের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দেবে।
এর ফলে বিলটি শীতকালীন অধিবেশনে পাস হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। (FCRA)বিলটি মার্চ মাসে লোকসভায় উত্থাপন করা হয়েছিল। এতে এনজিও এবং অন্যান্য সংস্থার বিদেশি তহবিলের ওপর সরকারের নজরদারি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে। বিশেষ করে কোনো সংস্থার এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেই সংস্থার বিদেশি অনুদান ও সম্পত্তি পরিচালনার জন্য একটি মনোনীত কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ যোগী রাজ্যে ইসলাম ত্যাগ করে সনাতন ধর্মে ফিরল বোরখা পরে কাঁওয়ার যাত্রা করা তামান্না মালিক
সরকারের দাবি, এটি স্বচ্ছতা বাড়ানোর জন্য এবং অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয়।তবে বিরোধীরা এই বিলের তীব্র বিরোধিতা করছে। তারা বলছে, এতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং সামাজিক সেবামূলক সংস্থাগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কংগ্রেসসহ কয়েকটি দল বিলটি পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। লোকসভায় আজ বিরোধী সাংসদরা হট্টগোল করেন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতি দাবি করেন।
তবুও সরকারের প্রস্তাব ভয়েস ভোটে পাস হয়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।জেপিসিতে (FCRA)লোকসভার ২১ জন এবং রাজ্যসভার ১০ জন সদস্য থাকবেন। লোকসভার সদস্যদের মনোনীত করবেন স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার সদস্যদের মনোনীত করবেন চেয়ারম্যান সিপি রাধাকৃষ্ণন। কমিটি বিস্তারিত পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন দেবে। এরপর শীতকালীন অধিবেশনে বিলটি নিয়ে আলোচনা ও ভোট হতে পারে।
এফসিআরএ আইন দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। সরকার বলছে, বিদেশি তহবিলের অপব্যবহার রোধে কঠোর নিয়ম দরকার। অন্যদিকে নাগরিক সমাজ ও কিছু ধর্মীয় সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে এর ফলে বৈধ সামাজিক কাজ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। উত্তর-পূর্বের কিছু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীও উদ্বেগ জানিয়েছেন।জেপিসিতে পাঠানোর ফলে এখন বিস্তৃত আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ আমেরিকা-রাশিয়াকে পিছনে ফেলে মালবাহী ট্রেন পরিষেবায় বিশ্বে ২ নম্বরে উঠে এল ভারত
কমিটি বিভিন্ন পক্ষের মতামত শুনতে পারবে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করতে পারবে। সরকার আশা করছে, এতে বিরোধীদের আপত্তি কিছুটা কমবে এবং বিলটি আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। শীতকালীন অধিবেশনের আগে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সেই অধিবেশনেই বিল পাসের সম্ভাবনা প্রবল।
