শ্রীনগর: জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৬ বছর পর এক পুরনো হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে তৎপরতা (Sarvanand Kaul)শুরু হয়েছে। কাশ্মীরি পণ্ডিত লেখক ও কবি সর্বানন্দ কৌল প্রেমি এবং তাঁর পুত্র বিরেন্দ্র কৌলের ১৯৯০ সালের হত্যার মামলায় স্টেট ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি বা এসআইএ বুধবার কাশ্মীর উপত্যকাসহ জম্মু ও কাশ্মীরের নয়টি স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিনের নীরবতাকে ভেঙে ন্যায়বিচারের দিকে একটা আশা জাগিয়েছে।১৯৯০ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে সশস্ত্র জঙ্গিরা অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকার সোয়াফ শালি গ্রাম থেকে সর্বানন্দ কৌল প্রেমি ও তাঁর ২৭ বছর বয়সী পুত্রকে তুলে নিয়ে যায়। দুই দিন পর ১ মে তাঁদের নির্যাতিত দেহ গাছে ঝোলানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাটি তখন কাশ্মীর উপত্যকায় শঙ্কার ঢেউ তুলেছিল এবং কাশ্মীরি পণ্ডিত সম্প্রদায়ের ব্যাপক অভিবাসনের অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে।
আরও দেখুনঃ NEET আন্দোলন নিয়ে আলোচনার জন্য বিরোধীদের দুপুর ৩টের ডেডলাইন দিলেন শাহ
মামলাটি দুরু থানায় এফআইআর নম্বর ৪৫/১৯৯০ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছিল। (Sarvanand Kaul)এখন সেই মামলার দায়িত্ব এসআইএর হাতে।বুধবার এসআইএ কাশ্মীরের তদন্তকারীরা জম্মু ও কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে সমন্বিত অভিযান চালান। এর মধ্যে রাজৌরি জেলায় ছয়টি, জম্মুতে দুইটি এবং কাশ্মীরে একটি স্থান রয়েছে। অভিযানের নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু বা উদ্ধারকৃত কোনো বস্তুর বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অভিযান হত্যাকারী ও তাঁদের সহযোগীদের সন্ধানে নতুন করে তৎপরতার অংশ।সর্বানন্দ কৌল প্রেমি ছিলেন একজন বিশিষ্ট কবি, লেখক, গবেষক ও সমাজকর্মী। তিনি জম্মু ও কাশ্মীর শিক্ষা দফতরে শিক্ষকতা করেছেন এবং ভগবদ্গীতা, রামায়ণসহ বহু গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন। তাঁর হত্যাকাণ্ড শুধু এক পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং সেই সময়ের সন্ত্রাসের ভয়াবহ চিত্রের প্রতিফলন।
আরও দেখুনঃ ‘টিকি রাখেন? আমিষ খান?’ রাম মন্দিরের ইন্টারভিউয়ে প্রশ্নের মুখে প্রাক্তন আইএএস-রা
ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাঁর পরিবার কাশ্মীর ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিল। (Sarvanand Kaul)এসআইএর এই পদক্ষেপ ইদানীং পুরনো সন্ত্রাসকালীন মামলাগুলো পুনরুজ্জীবিত করার ধারার অংশ। সম্প্রতি সংস্থার তরফে ১৯৯০ সালের আরেক কাশ্মীরি পণ্ডিত নার্স সরলা ভাটের হত্যাকাণ্ডে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। সেই মামলায় জেকেএলএফ নেতা ইয়াসিন মালিকসহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। প্রেমি ও তাঁর পুত্রের মামলায়ও একই ধরনের তদন্ত এগিয়ে চলছে।
