নয়াদিল্লি: ভারত এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মালবাহী রেল চালক। (freight rail) চিনকে ছাড়িয়ে যেতে না পারলেও আমেরিকা ও রাশিয়াকে পেছনে ফেলে দেশের মালবাহী রেল পরিষেবা একটি অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় রেল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১৬০ কোটি টন মাল পরিবহন করেছে।
পরের বছরে এই সংখ্যা আরও বেড়ে ১৬৭ কোটি টনের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এদিকে আমেরিকা প্রায় ১৫০ কোটি টন এবং রাশিয়া ১১০ থেকে ১২০ কোটি টন পরিবহন করেছে। চিন অবশ্য এখনও শীর্ষে রয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টন নিয়ে।এই সাফল্য একদিনে আসেনি। (freight rail)গত এক দশকে ভারতীয় রেলের মাল পরিবহনের পরিমাণ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ২০১৪-১৫ সালে যেখানে মাত্র ১০৯ কোটি টন মাল বহন করা হত, সেখানে এখন তা প্রায় দেড় গুণেরও বেশি হয়ে গেছে।
আরও দেখুনঃ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ঘর! মুম্বইয়ে ভূমিধসে মৃত ২, ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে বহু
এই বৃদ্ধির পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ডেডিকেটেড ফ্রেইট করিডোর বা ডিএফসি। পূর্ব ও পশ্চিম দুই করিডোর মিলিয়ে প্রায় ২৮০০ কিলোমিটারের এই বিশেষ মালবাহী রেলপথ এখন প্রায় পুরোপুরি চালু। প্রতিদিন এখানে তিন শতাধিক মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। সাধারণ রেললাইনে যেখানে ট্রেনের গতি গড়ে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ থাকে, সেখানে ডিএফসিতে গতি দ্বিগুণেরও বেশি।
ফলে কয়লা, সিমেন্ট, ইস্পাত, খাদ্যশস্যসহ নানা পণ্য দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে পৌঁছে যাচ্ছে গন্তব্যে।শুধু করিডোর নয়, ওয়াগনের সংখ্যা বাড়ানো, নতুন লোকোমোটিভ তৈরি এবং রেলপথের বিদ্যুতায়নও এই সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। দেশের ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের প্রায় পুরোটাই এখন বিদ্যুৎচালিত। ফলে পরিবেশের ক্ষতিও কম হচ্ছে।
রেলের মাধ্যমে মাল পরিবহন সড়কপথের তুলনায় অনেক কম কার্বন নির্গমন করে। (freight rail)একই সঙ্গে তেল আমদানির চাপও কমে আসছে। সড়কের ওপর চাপ কমে যাওয়ায় যানজট ও দুর্ঘটনার সম্ভাবনাও কমছে।এই অর্জনের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। শিল্প কারখানাগুলো এখন কাঁচামাল ও তৈরি পণ্য আরও দ্রুত ও সস্তায় পরিবহন করতে পারছে।
আরও দেখুনঃ পান মশলার প্লাস্টিকের মোড়ক নিষিদ্ধ! কড়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের
বিশেষ করে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো সময়মতো জ্বালানি পাচ্ছে। বন্দর থেকে অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে পণ্য পৌঁছানোর সময় কমে যাওয়ায় রফতানিও সহজ হচ্ছে। লজিস্টিকস খরচ কমে আসায় সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ছে।
