মুম্বই: ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটা সন্সের (Tata Sons) চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন এন চন্দ্রশেখরন। তবে এখনই তিনি দায়িত্ব ছাড়ছেন না, ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন। বুধবার নিজের পদত্যাগপত্রে চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, মেয়াদ শেষে তিনি আর পুনর্নিয়োগের জন্য আবেদন করবেন না। সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য তিনি বোর্ডকে অবিলম্বে পরবর্তী উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন।
আগামী ১৮ অগস্ট টাটা সন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) হওয়ার কথা। সেখানে ডিরেক্টর হিসেবে তাঁর পুনর্নিয়োগের বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের ভোট দেওয়ার কথা ছিল। তার ঠিক কয়েক দিন আগেই চন্দ্রশেখরনের এই ঘোষণায় শিল্পমহলে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। চন্দ্রশেখরনের ইস্তফার খবর প্রকাশ্যে আসতেই বুধবার শেয়ার বাজারে ধাক্কা খেয়েছে টাটা গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থা। টিসিএস (TCS), টাটা স্টিল এবং টাটা পাওয়ারের মতো সংস্থাগুলির শেয়ারের দাম এদিন বেশ কিছুটা নিম্নমুখী হতে দেখা যায়।
বেশ কিছু দিন ধরেই তাঁর মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে টাটা গোষ্ঠীর অন্দরে টানাপড়েন চলছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদে চন্দ্রশেখরনের মেয়াদ বৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন টাটা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা। নোয়েল শর্ত দিয়েছিলেন, টাটা সন্স শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত (IPO) হবে না, এই প্রতিশ্রুতি দিলে তবেই তিনি মেয়াদ বৃদ্ধিতে সম্মতি দেবেন। কিন্তু চন্দ্রশেখরন সেই প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি ছিলেন না। এর পাশাপাশি, বোর্ডের গঠন নিয়েও দু’পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়।
নিজের পদত্যাগপত্রে এই বিরোধের কথা কার্যত স্পষ্ট করেছেন চন্দ্রশেখরন। তিনি লিখেছেন, “টাটা সন্সের চেয়ারম্যান হিসেবে আমার বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি শেষ হচ্ছে। স্যার দোরাবজি টাটা ট্রাস্ট এবং স্যার রতন টাটা ট্রাস্ট সর্বসম্মতিক্রমে আরও পাঁচ বছরের জন্য আমার মেয়াদ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছিল। নমিনেশন অ্যান্ড রেমুনারেশন কমিটি এবং বোর্ডও তা অনুমোদন করে। এরপর ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি টাটা সন্সের বোর্ডে প্রস্তাবটি পেশ করা হয়। কিন্তু এক জন বোর্ড সদস্য সমর্থন না করায় এবং সর্বসম্মত সমর্থন না থাকায় আমি সিদ্ধান্তটি স্থগিত রাখার পথ বেছে নিই।”
১৯৮৭ সালে টাটা গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন চন্দ্রশেখরন। ধাপে ধাপে উঠে ২০০৯ সালে তিনি টিসিএসের সিইও হন এবং ২০১৭ সালে টাটা সন্সের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব নেন। তাঁর এই সম্ভাব্য বিদায় এমন এক সময়ে হতে চলেছে, যখন টাটা গোষ্ঠীর সামনে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ বর্তমান। বিমান দুর্ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়া বর্তমানে কড়া নজরদারির মুখে, টিসিএস-এ দাম নিয়ে চাপ রয়েছে এবং জ্যাগুয়ার ল্যান্ড রোভারে (JLR) সাইবার হানার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার জেরে ব্রিটেনের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়েছে। উল্লেখ্য, টাটা সন্স এবং টাটা ট্রাস্টের মধ্যে এই ধরনের বিবাদ নতুন নয়। ২০১৬ সালে রতন টাটার সঙ্গে মতবিরোধের জেরে সাইরাস মিস্ত্রিকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের রূপ নেয়।
পান মশলার প্লাস্টিকের মোড়ক নিষিদ্ধ! কড়া নির্দেশিকা কেন্দ্রের
চাঁদে ঘাঁটি তৈরির মার্কিন পরিকল্পনায় ভারত! ISRO-কে NASA-র আমন্ত্রণ
