কলকাতা: দক্ষিণ কোরিয়ার ভারতে বিনিয়োগের দ্বিতীয় ঢেউ এখন নতুন দিকে মোড় নিচ্ছে (South Korea)। অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স ও সাধারণ উৎপাদন খাতের বাইরে এবার জাহাজ নির্মাণ এবং সেমিকন্ডাক্টর সরবরাহ শৃঙ্খলকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই পরিবর্তনের কেন্দ্রে পশ্চিমবঙ্গকে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে দেখা হচ্ছে।
কোলকাতায় এক অনুষ্ঠানে দক্ষিণ কোরিয়ার (South Korea)রাষ্ট্রদূত লি সিয়ং-হো বলেন, বাংলার সংযোগ ব্যবস্থা এবং দক্ষ কর্মীবাহিনী কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে পূর্ব ভারত ও প্রতিবেশী বাজারগুলোতে প্রবেশের সুযোগ করে দিতে পারে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজ্যটি পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে।গত দশকের বেশি সময় ধরে হুন্ডাই, কিয়া, স্যামসাং ও এলজি-এর মতো কোম্পানিগুলো ভারতে মোটরগাড়ি ও ইলেকট্রনিক্স খাতে শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে তুলেছে।
আরও দেখুনঃ শ্রীনগরে ফের জঙ্গি হামলার আতংক! ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি কাশ্মীরি পন্ডিতদের
এখন সেই ‘প্রথম ঢেউ’-এর পর ‘দ্বিতীয় ঢেউ’ আসছে বলে রাষ্ট্রদূত মনে করেন। জাহাজ নির্মাণ খাতকে এই নতুন পর্বের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও আগ্রহ বাড়ছে। শুধু বড় কারখানা নয়, এর সঙ্গে যুক্ত একশোরও বেশি সরবরাহকারী কোম্পানির প্রয়োজন হবে। এতে মাঝারি ও ছোট উদ্যোগগুলোর জন্যও সুযোগ তৈরি হতে পারে।
ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ৫৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সিওল আগামী কয়েক বছরে ভারতে বিনিয়োগ দ্বিগুণ বা তিনগুণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খল পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারতকে কোরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।বাংলার জন্য এটি কৌশলগত সুযোগ।
আরও দেখুনঃ সামনেই ৮০তম স্বাধীনতা দিবস, দেশবাসীকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’র ডাক মোদীর!
রাজ্যের বন্দর, সড়ক ও রেল সংযোগ এবং শিক্ষিত জনশক্তি কোরিয়ান (South Korea)বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করতে পারে। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বাজারের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও বাংলার অবস্থান সুবিধাজনক। স্থানীয় শিল্প ও ক্ষুদ্র-মাঝারি উদ্যোগগুলো যদি এই সরবরাহ শৃঙ্খলে যুক্ত হতে পারে, তাহলে কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ বাড়বে।রাষ্ট্রদূত বলেন, কোরিয়ান কোম্পানিগুলোকে পশ্চিমবঙ্গে সুযোগ খুঁজে দেখতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
