শ্রীনগর: ফের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাশ্মীরে। (Kashmiri Pandit)জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যোগ থাকা একটি গোষ্ঠীর নামে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত হুমকি চিঠিকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে কাশ্মীরি পণ্ডিত সরকারি কর্মীদের মধ্যে।
পরিস্থিতি বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কর্মসংস্থান প্রকল্পের আওতায় উপত্যকায় নিযুক্ত শত শত কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকে আগামী ২৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। হুমকি চিঠিতে কয়েকজন কর্মীর নাম এবং তাঁদের যোগাযোগের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
আরও দেখুনঃ টেলিকম PLI-তে ৫২০০ কোটি বিনিয়োগ! বিক্রি ছাড়াল ১.১ লক্ষ কোটি
নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কর্মসংস্থান প্যাকেজের আওতায় নিযুক্ত সমস্ত কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীকেই সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সরকারি সূত্রের খবর, যাঁদের নাম ওই কথিত হুমকি চিঠিতে রয়েছে, তাঁদের ইতিমধ্যেই নিরাপদে জম্মুতে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপত্যকায় এখনও যাঁরা বসবাস করছেন, তাঁদেরও প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্মীদের আপাতত অফিসে না যাওয়ার জন্যও পুলিশ পরামর্শ দিয়েছে।
এক কাশ্মীরি পণ্ডিত (Kashmiri Pandit)কর্মী অমিত কৌল জানিয়েছেন, হুমকির পর পুলিশ তাঁদের কাজে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। উপত্যকায় থাকা কর্মীদের বাড়ির বাইরে না বেরোনোর কথাও বলা হয়েছে। ফলে কর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপত্যকায় ফিরে এসে সরকারি চাকরির মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফেরার চেষ্টা করা এই কর্মীদের কাছে পরিস্থিতি ফের উদ্বেগের হয়ে উঠেছে।
পুলিশ অবশ্য জানিয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরি হতে না দেওয়ার জন্যই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। একজন senior police officer জানিয়েছেন, এটি মূলত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। কথিত হুমকির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ও টহলদারি বাড়ানো হয়েছে।
আরও দেখুনঃ দেশে ফিরবে নেতাজির চিতাভস্ম? কন্যা অনিতার আর্জিতে কেন্দ্রকে নোটিস সুপ্রিম কোর্টের
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit)উপত্যকায় ফেরানো এবং পুনর্বাসনের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ কর্মসংস্থান প্যাকেজ চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০ কাশ্মীরি পণ্ডিতকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। ১৯৯০ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের সূচনার পর ব্যাপক সংখ্যায় কাশ্মীরি পণ্ডিত উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। তাঁদের পুনর্বাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই এই কর্মসংস্থান প্রকল্পকে দেখা হয়।
তবে গত কয়েক বছর ধরে উপত্যকায় কর্মরত কাশ্মীরি পণ্ডিতদের (Kashmiri Pandit)নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। ২০২২ সালে জঙ্গিদের একের পর এক লক্ষ্যভিত্তিক হামলায় পাঁচজন কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মী নিহত হন। এরপর প্রধানমন্ত্রী প্যাকেজের কর্মীরা দীর্ঘ প্রায় সাত মাস ধরে বিক্ষোভ করেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল, উপত্যকা থেকে তাঁদের জম্মুতে বদলি করা হোক। যদিও সরকার তাঁদের জম্মুতে পোস্টিং দেওয়ার দাবি মেনে নেয়নি। পরিবর্তে শ্রীনগর এবং উপত্যকার অন্যান্য তুলনামূলক নিরাপদ শহরে তাঁদের বদলি ও পোস্টিং করা হয়।
সম্প্রতি উপত্যকায় নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুলাই অনন্তনাগে জঙ্গি হামলায় এক পুলিশকর্মী নিহত হন। এরপর কুলগামে পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর হামলার ঘটনাও সামনে আসে। এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আশঙ্কা, জঙ্গিরা উপত্যকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং অন্যান্য দুর্বল গোষ্ঠীর উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই কাশ্মীরি পণ্ডিত কর্মীদের ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
