নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং বিভিন্ন কর্মী সংগঠনের মতামত ও দাবিদাওয়া শোনার জন্য অষ্টম বেতন কমিশনের ( 8th Pay Commission) যে আলোচনা-পর্ব দিল্লিতে চলছিল, সোমবার (১০ অগস্ট) তা শেষ হল। গত কয়েক মাস ধরেই ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারি (NC-JCM) এবং ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO)-সহ একাধিক সংগঠন বেতন পরিকাঠামো, পেনশন, ভাতা এবং চাকরির শর্তাবলি নিয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া কমিশনের কাছে পেশ করেছে। সমস্ত প্রধান সংগঠনের অভাব-অভিযোগ ও মতামত খতিয়ে দেখার পরেই অষ্টম বেতন কমিশন তাদের চূড়ান্ত সুপারিশগুলি আগামী ২০২৭ সালের মে-জুন মাস নাগাদ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দেবে।
এরই মধ্যে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ টেকনিক্যাল সুপারভাইজ়ারস অ্যাসোসিয়েশন বা আইআরটিএসএ (IRTSA)-র দাবিগুলি বিশেষ নজর কেড়েছে। সম্প্রতি হায়দরাবাদে অষ্টম বেতন কমিশনের কাছে একটি বিস্তৃত স্মারকলিপি পেশ করেছিল তারা। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি হল, ন্যূনতম বেতন (Minimum Pay) বাড়িয়ে ৫২,৬০০ টাকা করতে হবে। আইআরটিএসএ-র যুক্তি, বর্তমান সময়ের পরিবর্তিত জীবনযাত্রার খরচ, যেমন, ইন্টারনেট পরিষেবা, বোতলবন্দি পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যবিমার মতো অত্যাবশ্যক বিষয়গুলি মাথায় রেখেই এই হিসাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, লেভেল ১ থেকে ৫ পর্যন্ত কর্মীদের জন্য ২.৯২ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment factor) ধরে এই ন্যূনতম বেতনের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, রেলের সুরক্ষার সঙ্গে যুক্ত পদগুলির ক্ষেত্রে লেভেল ৬ থেকে আলাদা এবং উচ্চতর ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর চালুর দাবি জানিয়েছে তারা। আইআরটিএসএ-র প্রস্তাবিত হিসেবে লেভেল ৬-৮ এর ক্ষেত্রে ৩.৫০, লেভেল ৯-১২ এর ক্ষেত্রে ৩.৮০, লেভেল ১৩-১৬ এর ক্ষেত্রে ৪.০৯ এবং লেভেল ১৭-১৮ এর ক্ষেত্রে ৪.৩৮ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতনবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশ করারও প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
বেতনবৃদ্ধির পাশাপাশি রেলের প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের পদোন্নতি এবং সুযোগসুবিধা নিয়েও সরব হয়েছে ওই সংগঠন। বিশেষত, সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার (SSE) এবং জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের (JE) চাকরিতে পদোন্নতির অভাব ও কেরিয়ারের স্থবিরতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনের দাবি, সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ারদের ‘গ্রুপ-বি’ (গেজেটেড) মর্যাদা দিতে হবে। জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য লেভেল ৭ থেকে শুরু হওয়া পাঁচ-স্তরের গ্রেড কাঠামো চালু করতে হবে। সেই সঙ্গে এমএসিপিএস (MACPS) নিয়মে রদবদল, নাইট ডিউটি ভাতা, ওভারটাইম এবং ওপেন-লাইন ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীদের জন্য ঝুঁকি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির ভাতা (রিস্ক অ্যান্ড হার্ডশিপ অ্যালাউন্স) বৃদ্ধির দাবিও উঠেছে।
দিল্লির পর দেশের অন্যান্য শহরেও আলোচনা চালাবে কমিশন। আগামী ৩১ অগস্ট ও ১ সেপ্টেম্বর জয়পুরে বৈঠক হওয়ার কথা। এর পর আগামী ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর চেন্নাই, ৯ সেপ্টেম্বর পুদুচেরি এবং ১৬-১৮ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসবে অষ্টম বেতন কমিশন। তবে কমিশন এখনই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বা ন্যূনতম বেতনের বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনা-পর্ব শেষ করে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রকাশ্যে আসবে।
ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে লজিস্টিকস রুট
অষ্টম বেতন কমিশন: ২.০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর মানেই কি হাতে পাওয়া বেতন দ্বিগুণ?
