নয়াদিল্লি: সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ডিপফেক’ (Deepfake), বিকৃত ছবি এবং প্রচারমূলক বা বেআইনি বিষয়বস্তু রুখতে এ বার মেটা (Meta)-কে কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (MeitY)। এই ধরনের ক্ষতিকর ও বিভ্রান্তিকর তথ্য আটকাতে মেটাকে তাদের অ্যালগরিদমে বদল আনার পাশাপাশি, সরকারি নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়ে একটি বিশদ ‘রোডম্যাপ’ জমা দিতে বলেছে কেন্দ্র।
সংবাদ সংস্থা এএনআই (ANI)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্ত্রকের আধিকারিকরা মেটাকে কন্টেন্ট মডারেশন বা বিষয়বস্তু যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে, সরকারি বা অনুমোদিত সংস্থাগুলির তরফে কোনও বিষয়বস্তু মুছে ফেলার (Takedown) অনুরোধ এলে তা দ্রুত কার্যকর করা এবং ভারতের ‘ডেটা লোকালাইজেশন’ বা তথ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত নিয়মগুলি কঠোর ভাবে মেনে চলার কথাও বলা হয়েছে। ডিপফেক এবং বিকৃত ছবির চিহ্নিতকরণ ও তা দ্রুত মুছে ফেলার জন্য মেটাকে সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আরও নিবিড় ভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি ক্ষতিকর বিষয়বস্তু নিয়ে সম্প্রতি সমাজমাধ্যমগুলির উপর নজরদারি বাড়িয়েছে সরকার। সেই আবহেই গত শুক্রবার তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে মেটার একটি বৈঠক হয়। সেখানে মেটার কারিগরি দল অনলাইনে ক্ষতিকর বিষয়বস্তু চিহ্নিত করা এবং তা নিয়ন্ত্রণের বর্তমান ব্যবস্থাগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকেই বর্তমান ব্যবস্থায় কিছু ফাঁকফোকর থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছে মেটা। কৃত্রিম ভাবে তৈরি বিষয়বস্তু (Synthetic content) আটকাতে তারা কী কী কারিগরি পদক্ষেপের কথা ভাবছে, তা-ও মন্ত্রককে জানিয়েছে জ়াকারবার্গের সংস্থা। তবে সরকারি আধিকারিকরা মেটার অ্যালগরিদমে নির্দিষ্ট কিছু পরিবর্তনের জন্য চাপ দিয়েছেন, যাতে এই ধরনের অপপ্রচার এবং বিকৃত ছবির বিস্তার ঠেকানো যায়। আগামী সপ্তাহেই দুই পক্ষের মধ্যে ফের বৈঠক হতে পারে বলে সরকারি সূত্রের খবর।
এআই-চালিত বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণে সম্প্রতি কড়া অবস্থান নিয়েছে ভারত সরকার। তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের নয়া নিয়মে বলা হয়েছে, সমাজমাধ্যমগুলিকে এই ধরনের কৃত্রিম কন্টেন্টের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর ঘোষণাপত্র এবং স্পষ্ট লেবেল বা সতর্কবার্তা দিতে হবে। পাশাপাশি, মেটার অ্যালগরিদমের কার্যপদ্ধতি, অ্যালগরিদমের পক্ষপাতিত্ব এবং জনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ভূমিকা নিয়ে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে সংস্থার কাছে জবাব তলব করেছিল কেন্দ্র। সরকারের নির্দেশিকা মেনে কত দ্রুত ক্ষতিকর কন্টেন্ট সরানো হচ্ছে, তা নিয়েও সমাজমাধ্যমগুলির উপর চাপ বাড়িয়েছে নয়াদিল্লি।
কাশ্মীর উপত্যকায় ফিরে আসা পন্ডিতদের বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিল লস্কর জঙ্গিরা
ইউরেশিয়ান অর্থনৈতিক ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে লজিস্টিকস রুট
