রাজ্যজুড়ে ৫,২৯৯ লাউডস্পিকার অপসারণ, অভিযান চলবে বললেন মুখ্যমন্ত্রী

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে চলা অভিযানে ইতিমধ্যেই ৫,২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Subhendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি…

west-bengal-loudspeaker-removal-drive-5299-mosques-temples-subhendu-adhikari

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে চলা অভিযানে ইতিমধ্যেই ৫,২৯৯টি লাউডস্পিকার অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Subhendu Adhikari)। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, এর মধ্যে ৪,২০৩টি মসজিদ এবং ১,০৯৬টি মন্দির থেকে লাউডস্পিকার সরানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, আদালতের নির্দেশ মেনে এই অভিযান আগামী দিনেও চলবে।

Advertisements

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্য সরকার ২০২২ সালের হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা কার্যকর করছে। তাঁর বক্তব্য, ৫০ ডেসিবেলের বেশি শব্দ উৎপন্ন করে এমন লাউডস্পিকার যে কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে থাকলে তা অপসারণ করা হবে। তিনি বলেন, এই নিয়ম মন্দির ও মসজিদ উভয়ের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য।

   

শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কোথাও জোর করে লাউডস্পিকার খুলে নেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ আদালতের নির্দেশ মেনেই কাজ করছে এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সহযোগিতা করছে। তিনি বলেন, এই অভিযানে আইন মেনেই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

রাজ্যজুড়ে এই অভিযান শুরু হওয়ার পর রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। একদিকে বিজেপি সরকার শব্দদূষণ রোধে আইন প্রয়োগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে বিরোধীরা সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন আইন মেনে চলার আহ্বান জানালেও অভিযানের পদ্ধতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

Advertisements

অল বেঙ্গল ইমাম অ্যান্ড মুয়াজ্জিন অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি নিজামুদ্দিন বিশ্বাস মসজিদ পরিচালনা কমিটিগুলিকে পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন, পুলিশ লাউডস্পিকার খুলতে এলে কোনও বাধা না দিয়ে পুরো প্রক্রিয়ার ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণ করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য বলেন, বিষয়টিকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের আইন প্রয়োগের বিষয়। তিনি বলেন, প্রত্যেক মানুষ নিজের উপাসনালয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন, তবে অপ্রয়োজনীয় শব্দদূষণ সৃষ্টি করা উচিত নয়।

রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর বিষয়ক মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তাঁর বক্তব্য, শব্দদূষণ সংক্রান্ত আইন সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য এবং সেই আইনই কার্যকর করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বিরোধী দলগুলির একাংশ এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সৌগত রায় অভিযোগ করেন, এই অভিযান বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক এজেন্ডার অংশ এবং বিশেষ একটি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এজেইউপির প্রধান এবং নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীর বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে লাউডস্পিকার ব্যবহারের নিয়ম মানা নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। তবে তাঁর অভিযোগ, উন্নয়নমূলক বিষয়ের পরিবর্তে সরকার বারবার লাউডস্পিকার, পশুবলি ও আজানের মতো বিতর্কিত বিষয় সামনে আনছে।

আইনজীবী আলি আফজল খানও সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, এই বিতর্কের মাধ্যমে প্রশাসন জনকল্যাণ ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি থেকে মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।

এদিকে আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে খুব শীঘ্রই কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের করা হবে। এটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) অথবা সাধারণ রিট পিটিশন, কোনটি হবে তা এখনও চূড়ান্ত না হলেও আদালতের দ্বারস্থ হওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই অভিযানকে ঘিরে প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও আইনি স্তরে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Also Read |  NEET কে অনলাইনে নিয়ে যেতে চায় কেন্দ্র! কিন্তু বাস্তব কি বলছে ?

Also Read |  পুলিশের পোশাক জাল করে যন্তরমন্তরে নাশকতার ছক! হামিমকে নিয়ে ভয়ঙ্কর তথ্য STF র

Also Read | সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নে ফের নজরে বাংলা! কালিকাপুরের মাদ্রাসা থেকে উদ্ধার ৪০লক্ষ নগদ-১৮০ গ্রামের সোনার মুদ্রা

Also Read |  পরের স্টেশন মোহনবাগান! মাঠের গণ্ডি ছাড়িয়ে মেট্রোর মানচিত্রে শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাব

Advertisements