কলকাতা: “বাংলা আর দুর্বল রাজ্য থাকবে না। শক্তিশালী হবে। তার জন্য যা যা করার, বর্তমান সরকার করবে।” বৃহস্পতিবার মিলন মেলা প্রাঙ্গণে বস্ত্রশিল্পের সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে ঠিক এই ভাষাতেই জোরালো বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন বাংলার শিল্পায়নের রূপরেখা তুলে ধরার পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকেও কড়া ভাষায় নিশানা করেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, “ক্ষতি তো যা হওয়ার হয়ে গিয়েছে। এ বার পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার রাস্তা খুঁজতে হবে।”
কেন্দ্রের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, বাংলায় বস্ত্রশিল্পের উন্নতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় সরকার এই বিষয়ে সম্পূর্ণ সাহায্য করতে প্রস্তুত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নির্মলাজি আমায় বলেছেন, এ রাজ্যে দুই ক্ষেত্রে উনি কিছু কাজ করতে চান, এক, চা বাগান এবং দুই, বস্ত্রশিল্প।”
ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বস্ত্রশিল্পের উন্নতির জন্য যদি আইন বদলাতেও হয়, সরকার তা করতে পিছপা হবে না। ব্যবসায়ীদের তাঁদের প্রস্তাব মুখ্যসচিবের কাছে জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি, যা পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো হবে।
‘আগের মুখ্যমন্ত্রী সুরাটের নাম শুনলেই বহিরাগত বলতেন’
বস্ত্রশিল্পের সাপ্লাই চেইন বা কাঁচামাল জোগানের কথা বলতে গিয়ে এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে নাম না করে কটাক্ষ করেন শুভেন্দু। তিনি বুঝিয়ে দেন, ব্যবসা একটি শৃঙ্খল মেনে এগোয়, যেখানে কাঁচামাল, কারিগর এবং পরিবহণ এক সূত্রে গাঁথা।
গুজরাটের সুরাট থেকে বস্ত্রশিল্পের কাঁচামাল আসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “আগের মুখ্যমন্ত্রী তো সুরাটের নাম শুনতেই বলে দিতেন, ওরা বহিরাগত। বর্তমান সরকার এই নীতিতে বিশ্বাস করে না।” বাংলার কারিগরদের প্রশংসা করে তিনি জানান, এখানকার হিউম্যান রিসোর্স (মানবসম্পদ) ও শিক্ষা অত্যন্ত উন্নত। সরকার এবং ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলেই সাফল্য আসবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নজর ও ‘সিঙ্গল উইন্ডো’র প্রতিশ্রুতি
পশ্চিমবঙ্গের হাল ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছেন, সে কথাও এদিন মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাজ্য দিবসে বাংলায় এসে প্রধানমন্ত্রী অনেক প্রকল্পের শিলান্যাস করেছেন এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের অবিলম্বে বাংলায় গিয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সবশেষে রাজ্যে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আগে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে। গুন্ডামি, সিন্ডিকেট, কাটমানি, তোলাবাজি, যে পরিস্থিতি ছিল, তা বদলাতে হবে।” শিল্পপতিদের সুবিধার্থে জমির বন্দোবস্ত এবং ‘সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম’ চালুর আশ্বাস দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, “অলসতা ঝেড়ে ফেলে কাজ করবে এই সরকার।”
গ্রেফতার করা যাবে না সুমিতকে! শর্তসাপেক্ষে অভিষেকের আপ্তসহায়ককে সুপ্রিম রক্ষাকবচ
মালদহে ফের টাকার পাহাড়! উদ্ধার ৪১ লক্ষ ও মাদক, ধৃত ২
