এলওসি-এলএসি বরাবর মোতায়েন হবে ইরানি মডেলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ভারতের কাল ড্রোন

ভারত ১,০০০ কিলোমিটার পাল্লাবিশিষ্ট নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন) তৈরি করেছে। ‘কাল’ (Kaal) নামের এই ড্রোনটি সম্পূর্ণভাবে ভারতেই নকশা ও…

KAL

ভারত ১,০০০ কিলোমিটার পাল্লাবিশিষ্ট নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম ‘ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন’ (একমুখী আক্রমণকারী ড্রোন) তৈরি করেছে। ‘কাল’ (Kaal) নামের এই ড্রোনটি সম্পূর্ণভাবে ভারতেই নকশা ও প্রস্তুত করেছে দেশীয় প্রতিরক্ষা সংস্থা ‘আইজি ডিফেন্স’ (IG Defence)। শীঘ্রই এই ড্রোনটি নিয়ন্ত্রণরেখা (LoC) এবং প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) বরাবর মোতায়েন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থার তথ্যমতে, ভারত সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এই স্ট্রাইক ড্রোনটি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর কাছেও বিক্রি করা হবে।

Advertisements

‘কাল’ (Kaal) ড্রোনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
কোম্পানির তথ্যমতে, ‘কাল’ ড্রোনটি শীঘ্রই চিন-পাকিস্তান সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। এটি ১,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এটি একটানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা উড়তে পারে। এটি ৫০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত ওজনের অস্ত্র বা পেলোড বহন করতে পারে।

   

এটি শত্রুর ট্যাঙ্ক, বাঙ্কার এবং আউটপোস্টের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালাতে সক্ষম। স্বয়ংক্রিয় নেভিগেশন ও নিখুঁত নিশানার ব্যবস্থাসম্পন্ন হওয়ায়, এটি সৈন্যদের কোনো ঝুঁকিতে না ফেলেই শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানতে পারে।

একমুখী আক্রমণের ড্রোন (one-way attack drone) কী?
এটি একমুখী আক্রমণের ড্রোন—বা কামিকাজে ড্রোন। মিশন শেষে এটিকে আর ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা থাকে না; বরং এটি সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর ওপর আছড়ে পড়ে সেটিকে ধ্বংস করে। এ কারণেই এটিকে ‘লোইটারিং মিউনিশন’ (loitering munition)-ও বলা হয়।

Advertisements

কোম্পানিটি জানিয়েছে যে, এই ড্রোনটি ইরানের ‘শহেদ-১৩৬’ (Shahed-136), রাশিয়ার ‘গেরান-২’ (Geran-2) এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘লুকাস’ (LUCAS)-এর মতোই একই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। সাম্প্রতিক সংঘাতগুলোর প্রেক্ষাপটে এ ধরনের স্বল্পমূল্যের ড্রোনের বৈশ্বিক চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি গতি পাবে।

আইজি (প্রতিরক্ষা) জানিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে দূরপাল্লার আক্রমণকারী ড্রোনের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। এটি ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এবং স্বল্প খরচে নির্ভরযোগ্য অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে দেশটির সক্ষমতারই প্রমাণ। ভারত সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন পাওয়ার পরই ‘কাল’ (Kaal) রফতানি করা হবে। সরকার ইতিমধ্যেই ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) উদ্যোগের আওতায় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রফতানি বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। ‘কাল’ ছাড়াও কোম্পানিটি ইন্টারসেপ্টর ড্রোন, এফপিভি (FPV) কমব্যাট ড্রোন, এআই (AI) সোয়ার্ম সিস্টেম এবং কাউন্টার-ড্রোন সিস্টেম নিয়ে কাজ করছে।

Advertisements