বাবান আদক, কলকাতা: ময়দান মানেই এক অদ্ভুত নস্টালজিয়া, আর সেই নস্টালজিয়ার পারদ সবচেয়ে বেশি চড়ে ডার্বির দিনে। কলকাতা ফুটবল লিগের (Calcutta Football League) সেই চিরপ্রতিক্ষিত হাই ভোল্টেজ মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল মহারণ ঘিরে এবার উঠে এল এক সম্পূর্ণ নতুন জল্পনা। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে এবার কি তবে ডার্বির আসর বসতে চলেছে বারাসত স্টেডিয়ামে? ময়দানের আনাচে কানাচে কান পাতলে আপাতত সেই জোরালো সম্ভাবনার কথাই শোনা যাচ্ছে। তবে, গোটা বিষয়টিই এখন নির্ভর করছে সময়ের সঙ্গে এক কঠিন লড়াইয়ের ওপর।
গত কয়েক মরশুমে কলকাতা লিগের বিন্যাস এবং ভেন্যু নিয়ে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষা দেখেছে ফুটবল মহল। এবার সেই তালিকায় নবতম সংযোজন হতে পারে বারাসতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গন। আয়োজকদের তরফ থেকে প্রাথমিক সবুজ সঙ্কেত মিলেছে ঠিকই, কিন্তু ডার্বি মানে তো শুধু নব্বই মিনিটের বল দখলের লড়াই নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দুই প্রধানের অগণিত সমর্থকের আবেগ, নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্লু প্রিন্ট এবং বিস্তর পরিকাঠামোগত আয়োজন। ঠিক এই জায়গাতেই লুকিয়ে রয়েছে আসল চ্যালেঞ্জ।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বারাসত স্টেডিয়ামে ডার্বি আয়োজনের সম্ভাবনা প্রবল হলেও, এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত কাজ বাকি রয়ে গিয়েছে। গ্যালারির সংস্কার থেকে শুরু করে ড্রেসিংরুমের আধুনিকীকরণ এবং সম্প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর খুঁটিনাটি সব দিকই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ডার্বির মতো মেগা ম্যাচে দর্শক সামলানো পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে এক বড়সড় অ্যাসিড টেস্ট। তাই নিরাপত্তার কষ্টিপাথরে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য স্টেডিয়ামের কাজ শতভাগ সম্পূর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক।
কর্তৃপক্ষের কাছে বার্তা স্পষ্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে স্টেডিয়ামের বাকি কাজ সম্পূর্ণ করতে পারলেই কেবল ডার্বি আয়োজনের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পাবে বারাসত। আর তা যদি বাস্তবায়িত হয়, তবে উত্তর শহরতলির ফুটবলপ্রেমীদের জন্য তা এক ফুটবল উৎসব হয়ে ধরা দেবে। এখন দেখার, আয়োজক এবং স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের এই ‘রেস এগেনস্ট টাইম’-এ শেষ পর্যন্ত জয় কার হয়। বারাসতের বুকে সত্যিই ডার্বির বাঁশি বাজে কি না, সেদিকেই আপাতত অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আপামর বঙ্গ ফুটবল মহল।
