মাঠ দিল আমেরিকা, পকেট ভরল FIFA! টাকা না মিটিয়ে ‘গা ঢাকা’ ইনফান্তিনোদের

বাবান আদক, কলকাতা: ফুটবলার বা কোচেরা চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য টাকা না পেলে কার দ্বারস্থ হন? উত্তরটা সবার জানা ফিফা (FIFA)। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাই…

fifa-world-cup-host-city-payment-dispute-us-host-cities

বাবান আদক, কলকাতা: ফুটবলার বা কোচেরা চুক্তি অনুযায়ী প্রাপ্য টাকা না পেলে কার দ্বারস্থ হন? উত্তরটা সবার জানা ফিফা (FIFA)। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থাই সেখানে শেষ ভরসা। কিন্তু সেই ‘রক্ষক’ ফিফাই যখন ভক্ষকের রূপ নেয়, তখন সুবিচারের আশায় কোথায় আবেদন করবেন? অবাক লাগলেও ঠিক এই চরম নজিরবিহীন ও হাস্যকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছে খোদ আমেরিকা। প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রাপ্য অর্থ না মেটানোর অভিযোগে এবার খোদ ফিফার বিরুদ্ধেই বিদ্রোহ ঘোষণা করল বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকার ১১টি শহর।

Advertisements

গত বিশ্বকাপে আমেরিকার ১১টি মাঠে খেলা হয়েছিল। এই বিশ্বমানের স্টেডিয়ামগুলি পরিচালনা করে বিভিন্ন বেসরকারি ও কর্পোরেট সংস্থা। একটা অলিখিত প্রথা বিশ্ব ফুটবলে রয়েছে। গত বছর ক্লাব বিশ্বকাপের সময় প্রতিটি আয়োজক শহরের মাঠকে প্রায় ১০ কোটি টাকা করে আর্থিক পুরস্কার দিয়েছিল জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বোর্ড। সেই নজির মেনেই আমেরিকার এই ১১টি শহর জানতে চেয়েছিল, বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞেও তারা এই সাহায্য পাবে কি না। ফিফা তখন মৌখিকভাবে রাজি হলেও, অত্যন্ত ধূর্ততার সঙ্গে কোনও সরকারি বিবৃতি বা আইনি চুক্তির পথে হাঁটেনি। আর এখন সেই সুযোগকেই ঢাল করে কার্যত নিজেদের দায়িত্ব থেকে নির্লজ্জের মতো মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে তারা। জুরিখের সদর দফতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ মিলছে না, আর স্থানীয় আয়োজক কমিটিগুলোও ইতিমধ্যেই অবলুপ্ত হওয়ায় তৈরি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি।

   

এবার আসা যাক ফিফার আর্থিক প্রহসনের পরিসংখ্যানে, যা যে কোনও ক্রীড়া বিশ্লেষকের চোখ কপালে তুলতে বাধ্য। আয়োজক শহরের কর্তাদের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে ফিফার ঘরে মুনাফা ঢুকেছে প্রায় ১,৪২,৭০৬ কোটি টাকা! এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনে ফিফার মোট খরচ হয়েছে ২৫,৬৭৬ কোটি টাকা। অথচ, ১১টি শহরকে ১০ কোটি টাকা করে দিতে হলে ফিফার কোষাগার থেকে খসবে সর্বসাকুল্যে মাত্র ১১০ কোটি টাকা। লক্ষ কোটি টাকা মুনাফা লোটার পরেও মাত্র ১১০ কোটি টাকার জন্য কেন এই টালবাহানা? কোটি কোটি টাকার সাগরে বসে সামান্য কয়েকটা টাকার জন্য ফিফার এই প্রবঞ্চনা বিশ্ব ফুটবলের ভাবমূর্তিকে চরম কালিমালিপ্ত করছে। ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রবল চাপে পড়েছেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। বকেয়া না মেটালে এই বিদ্রোহ যে আরও ভয়াবহ রূপ নেবে, তা নিশ্চিত।

Advertisements