জ্বালানির দাম বাড়লেও জুনে আন্তর্জাতিক বিমানযাত্রী বেড়েছে, চাহিদা শক্তিশালী: রিপোর্ট

মুম্বই: ভারতের বিমান পরিবহণ (India Aviation) শিল্পে জ্বালানির খরচ এবং টাকার অবমূল্যায়নের চাপ বাড়লেও ২০২৬ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহণে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। একই…

india-aviation-june-2026-international-passenger-growth-equirus-report

মুম্বই: ভারতের বিমান পরিবহণ (India Aviation) শিল্পে জ্বালানির খরচ এবং টাকার অবমূল্যায়নের চাপ বাড়লেও ২০২৬ সালের জুন মাসে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহণে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। একই সঙ্গে দেশীয় বিমান পরিষেবাতেও যাত্রী চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে আর্থিক পরিষেবা সংস্থা Equirus-এর একটি নতুন রিপোর্ট।

Advertisements

রিপোর্ট অনুযায়ী, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের ব্যস্ত সময় শেষ হওয়ায় দেশীয় যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও বিমান সংস্থাগুলি আসন ব্যবস্থাপনা দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করায় Passenger Load Factor (PLF) বা আসন পূরণের হার উচ্চ পর্যায়ে বজায় রয়েছে।

   

জুনে আন্তর্জাতিক যাত্রী বেড়েছে

রিপোর্টে বলা হয়েছে, জুন মাসে ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলির আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লক্ষে পৌঁছেছে। এটি মে মাসের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। যদিও গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আন্তর্জাতিক যাত্রীর সংখ্যা এখনও কিছুটা কম রয়েছে।

একই সময়ে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা ৬ শতাংশ বেড়েছে, তবে মোট আসনসংখ্যা (Capacity) প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। এর ফলে আগের কয়েক মাসের বিঘ্ন কাটিয়ে আন্তর্জাতিক পরিষেবা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

Advertisements

Also Read | বিশ্বে প্রথম বিদ্যুৎ চালিত ডবল স্ট্যাক ট্রেন চালিয়ে ইতিহাস ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ভারতের

দেশীয় বাজারে চাহিদা শক্তিশালী

জুন মাসে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান পরিষেবায় প্রায় ১ কোটি ৩৫ লক্ষ যাত্রী ভ্রমণ করেছেন। এটি গত বছরের তুলনায় ১ শতাংশ এবং মে মাসের তুলনায় ১২ শতাংশ কম। তবে এই হ্রাসকে মৌসুমি প্রবণতার ফল বলেই মনে করছে Equirus। গ্রীষ্মের ছুটির মরসুম শেষ হওয়ার পর সাধারণত যাত্রীসংখ্যা কিছুটা কমে যায়।

আসন পূরণের হার বেড়েছে

যাত্রীসংখ্যা কিছুটা কমলেও বিমান সংস্থাগুলির Passenger Load Factor (PLF) ছিল ৮৫.৭ শতাংশ। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১৮ বেসিস পয়েন্ট বেশি, যা দেখায় বিমান সংস্থাগুলি তুলনামূলক কম যাত্রী নিয়েও বিমান ব্যবহারে দক্ষতা বজায় রাখতে পেরেছে।

এছাড়া Revenue Passenger Kilometres (RPK) প্রায় ১৩.৩ বিলিয়ন-এ স্থির ছিল, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত। অন্যদিকে Available Seat Kilometres (ASK) ২ শতাংশ কমেছে, কারণ বিমান সংস্থাগুলি চাহিদা অনুযায়ী আসনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে।

Also Read | দীর্ঘ ৬ বছর পর ফের নাথুলা দিয়ে চালু হল ভারত-চিন বাণিজ্য

বাড়ছে জ্বালানির খরচ

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিমান সংস্থাগুলির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি।
• ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের গড় দাম জুলাই মাসে ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৮৭.৩ মার্কিন ডলার।
• এটি গত বছরের তুলনায় এবং আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ বেশি।
• সিঙ্গাপুর জেট ফুয়েলের দাম পৌঁছেছে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১৫৫ মার্কিন ডলারে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৭১ শতাংশ বেশি।

টাকার দুর্বলতায় বাড়ছে ব্যয়

শুধু জ্বালানির দামই নয়, ভারতীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নও বিমান সংস্থাগুলির খরচ বাড়াচ্ছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্য প্রায় ৯৫.৪-এ নেমে এসেছে। এর ফলে বিমানের লিজ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ডলারে পরিশোধযোগ্য অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

আগামী দিনে কী হতে পারে?

Equirus-এর মতে, বর্তমানে বিমান পরিবহণ শিল্পে মিশ্র পরিস্থিতি রয়েছে। একদিকে দেশীয় বাজারে যাত্রী চাহিদা এখনও শক্তিশালী এবং আসন পূরণের হারও সন্তোষজনক। অন্যদিকে জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং টাকার দুর্বলতা বিমান সংস্থাগুলির লাভজনকতার উপর আগামী কয়েক মাসে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিমান সংস্থাগুলি যদি দক্ষতার সঙ্গে সক্ষমতা (Capacity) পরিচালনা করতে পারে এবং যাত্রী চাহিদা বর্তমান গতিতে বজায় থাকে, তাহলে পরিচালন ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা সম্ভব হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এবং বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা আগামী দিনে এই খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে থাকবে।

Advertisements