মহারাজের সিদ্ধান্তে লাভবান রাহানে ! ঠিক কত টাকা পেনশন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটারের?

অজিঙ্ক রাহানের (Ajinkya Rahane ) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়ের পর্দা নেমেছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পেনশন প্রকল্পের আওতায়…

ajinkya-rahane-bcci-pension-rs-70000-sourav-ganguly-decision

অজিঙ্ক রাহানের (Ajinkya Rahane ) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অধ্যায়ের পর্দা নেমেছে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর এবার ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) প্রাক্তন ক্রিকেটারদের পেনশন প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সুবিধা পাবেন তিনি। বিসিসিআইয়ের বর্তমান পেনশন নীতিমালা অনুযায়ী, রাহানে প্রতি মাসে ৭০ হাজার টাকা পেনশন পাওয়ার যোগ্য হয়েছেন।

Advertisements

প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বিসিসিআই সভাপতি থাকাকালীন ২০২২ সালে এই পেনশন প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল দেশের হয়ে দীর্ঘদিন খেলেছেন এমন প্রাক্তন ক্রিকেটারদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সেই সময়ই বিভিন্ন স্তরের পেনশনের পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়। আগে যেখানে সর্বোচ্চ পেনশন ছিল মাসিক ৫০ হাজার টাকা, পরে তা বাড়িয়ে ৭০ হাজার করা হয়।

   

৩০ জুলাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেন রাহানে। যদিও শেষবার তিনি ভারতের জার্সিতে খেলেছিলেন ২০২৩ সালে। এরপর জাতীয় দলে আর সুযোগ না পেলেও হাল ছাড়েননি। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত খেলেছেন এবং ভালো পারফরম্যান্সের মাধ্যমে আবারও জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই প্রত্যাবর্তন আর সম্ভব হয়নি। অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার ইতি টেনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি।

ভারতের হয়ে রাহানের পরিসংখ্যান যথেষ্ট সমৃদ্ধ। তিনি ৮৫টি টেস্ট, ৯০টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং ২০টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। টেস্ট ক্রিকেটে ২৫টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন এমন ক্রিকেটারদের বিসিসিআইয়ের সর্বোচ্চ স্তরের পেনশন দেওয়া হয়। ৮৫টি টেস্ট খেলার সুবাদে রাহানেও সেই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এবং এখন থেকে মাসিক ৭০ হাজার টাকা পেনশন পাবেন।

Advertisements

রাহানের ক্রিকেটজীবনের অন্যতম সেরা সাফল্য আসে ২০২০-২১ মরসুমে। নিয়মিত অধিনায়ক বিরাট কোহলি দেশে ফিরে যাওয়ার পর তাঁর কাঁধেই নেতৃত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল। কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জিতিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নিজের নাম আলাদা করে লিখিয়ে রাখেন তিনি। সেই সিরিজে তাঁর শান্ত নেতৃত্ব ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং আজও ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে রয়েছে।

অবসরের পর রাহানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি কোচিং, ধারাভাষ্য, প্রশাসন নাকি অন্য কোনও ভূমিকায় ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনও ঘোষণা করেননি। কিছুদিন বিশ্রাম নেওয়ার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন কি না, সেটিও জানা যায়নি।

রাহানের অবসরের প্রভাব শুধু ভারতীয় ক্রিকেটেই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও পড়তে পারে। গত আইপিএল মরসুমে তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্সের অধিনায়কের দায়িত্ব সামলেছিলেন। তাঁর সরে দাঁড়ানোর পর দলের নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে কেকেআরকে। ফলে আগামী মরসুমের আগে নতুন অধিনায়ক নির্বাচন এখন ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও ভারতীয় ক্রিকেটে অজিঙ্ক রাহানের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে। মাঠে তাঁর সংযমী ব্যক্তিত্ব, দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং কঠিন সময়ে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম সম্মানিত ক্রিকেটারে পরিণত করেছে। অবসরের পর নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেও তাঁর কৃতিত্ব এবং সাফল্যের স্মৃতি ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে।

Advertisements