বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে ব্রহ্মোস! ফিলিপাইনের পর এবার থাইল্যান্ডও কিনবে ভারতের ‘ব্রহ্মাস্ত্র’

Defence Deal: ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও স্বীকৃতি লাভ করছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফিলিপাইনের পর…

Brahmos

Defence Deal: ভারত ও রাশিয়ার যৌথ উদ্যোগে তৈরি সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ‘ব্রহ্মোস’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও স্বীকৃতি লাভ করছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফিলিপাইনের পর এবার থাইল্যান্ডও এই শক্তিশালী জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি কেনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিজেদের সামরিক বাহিনীকে আধুনিকীকরণ এবং সামুদ্রিক সীমানা সুরক্ষিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে থাইল্যান্ড ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে।

Advertisements

এই পদক্ষেপটি কেন তাৎপর্যপূর্ণ?
* ভারসাম্যপূর্ণ নীতি: থাইল্যান্ড ধারাবাহিকভাবে এমন একটি নীতি মেনে চলেছে যেখানে তারা কোনো একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করে না। যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে, ভারত থেকে অস্ত্র কেনার মাধ্যমে থাইল্যান্ড তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদার করতে চাইছে।

   

* চিনের সাথে সম্পর্ক: থাইল্যান্ড চিনের সাথে শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং অতীতে দেশটি থেকে অস্ত্রও কিনেছে। তবে নিজেদের নিরাপত্তার সাথে কোনো আপস না করেই, আধুনিক প্রযুক্তির জন্য তারা ভারতের মতো অন্যান্য বিকল্পও বিবেচনা করছে। * প্রতিরক্ষা রফতানিতে ভারতের এগিয়ে থাকা: ফিলিপাইনের পর থাইল্যান্ড যদি এই চুক্তিটি চূড়ান্ত করে, তবে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানিকে আরও জোরদার করবে।

ব্রহ্মোস (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্র সংগ্রহের ফলে থাইল্যান্ড কীভাবে উপকৃত হবে?
* সামুদ্রিক শক্তি বৃদ্ধি: এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচণ্ড গতি এবং নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদের সক্ষমতা থাই নৌবাহিনীকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করে তুলবে।
* সামুদ্রিক সীমানা সুরক্ষা: থাইল্যান্ড তার সামুদ্রিক এলাকা ও বাণিজ্য রুটগুলোকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে সক্ষম হবে।

Advertisements

এই ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
* সুপারসনিক গতি: ব্রহ্মোস বিশ্বের অন্যতম দ্রুতগামী সুপারসনিক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এটি ম্যাক ২.৮ থেকে ম্যাক ৩ গতিতে—অর্থাৎ শব্দের গতির প্রায় তিন গুণ বেগে—আঘাত হানে, যার ফলে শত্রুপক্ষ পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো সময় পায় না।

* নিখুঁত লক্ষ্যভেদ ক্ষমতা: এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম; এর ফলে পার্শ্ববর্তী ক্ষয়ক্ষতি বা ‘কোলেটারাল ড্যামেজ’ ন্যূনতম রেখে শত্রুর স্থাপনা বা যুদ্ধজাহাজ সম্পূর্ণ ধ্বংস করা সম্ভব হয়।

* বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য: এটি সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ, বিমান এবং স্থল-ভিত্তিক ভ্রাম্যমাণ লঞ্চার থেকে সহজেই উৎক্ষেপণ করা যায়।

* সামুদ্রিক নিরাপত্তায় নিখুঁত কার্যকারিতা: এর জাহাজ-বিধ্বংসী সংস্করণটি অত্যন্ত বিধ্বংসী হিসেবে বিবেচিত; এটি শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও নৌবহর ধ্বংস করতে সক্ষম।

ভারতের জন্য এর তাৎপর্য কী?
ফিলিপাইনের সাথে সফল প্রতিরক্ষা চুক্তির পর, থাইল্যান্ডের সাথেও যদি চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়, তবে তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রে আরও একটি বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। এটি ভারত ও থাইল্যান্ডের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও জোরদার করবে। যদিও আলোচনাটি বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবুও এই ঘটনাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এখন ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণের ঊর্ধ্বে উঠে তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

Advertisements