জাতীয় লজ্জা! বাংলার নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক তৃণমূলের আইনজীবী

বাংলায় নির্বাচনী আবহে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল নির্বাচন কমিশনের একাধিক নির্দেশিকা। (Kapil Sibal)আর এই ইস্যুতেই সরব হলেন রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল । কমিশনের…

kapil-sibal-election-commission-west-bengal-motorcycle-ban-controversy

বাংলায় নির্বাচনী আবহে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল নির্বাচন কমিশনের একাধিক নির্দেশিকা। (Kapil Sibal)আর এই ইস্যুতেই সরব হলেন রাজ্যসভার সাংসদ কপিল সিব্বল । কমিশনের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তকে তিনি “অযৌক্তিক” ও “জাতীয় লজ্জা” বলে আখ্যা দিয়েছেন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

Advertisements

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গে দু’দফার ভোটকে সামনে রেখে কিছু কড়া নির্দেশ জারি করেছে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, ভোটের দিনগুলিতে সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর, উদয়পুর এবং শঙ্করপুরের মতো সমুদ্রতীরবর্তী পর্যটন কেন্দ্রগুলি থেকে পর্যটক ও বহিরাগতদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ বাংলায় খাতা খুলবে কংগ্রেস! দমদমের মঞ্চ থেকে এ কী বললেন অমিত শাহ?

এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে কপিল সিব্বল বলেন, “নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে কোনও যুক্তি নেই। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং লজ্জাজনক।” তাঁর বক্তব্য, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সাধারণ নাগরিক যদি রাতের বেলা মোটরসাইকেলে যাতায়াত করতে চান, তাহলে তা কি কমিশন আটকাতে পারে? তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি হলেও তার নামে নাগরিক স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশের পেছনে মূল লক্ষ্য হল ভোট চলাকালীন অশান্তি বা অনিয়ম রোধ করা। অতীতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে বাইক বাহিনীর মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় দখলদারি, ভয় দেখানো বা ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কমিশন হয়তো এই পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকায় এই ধরনের কড়াকড়ি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকেই।

Advertisements

অন্যদিকে, বিরোধী মহলের একাংশ এই পদক্ষেপকে ‘অতিরিক্ত কঠোর’ বলে মনে করছে। তাঁদের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে অযথা বিধিনিষেধ চাপানো হচ্ছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলি থেকে পর্যটকদের সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের একাংশ আশঙ্কা করছেন, এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে যখন গ্রীষ্মের সময় পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে।

তবে প্রশাসনের তরফে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সাফাই দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, নির্বাচন নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই প্রধান লক্ষ্য। যদি কিছু সময়ের জন্য কড়াকড়ি আরোপ করতে হয়, তা বৃহত্তর স্বার্থেই করা হচ্ছে। ভোট শেষ হলেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। একদিকে কমিশনের কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন তুলছেন।

Advertisements