নয়াদিল্লি: ডোকলাম থেকে গলওয়ান, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় (LAC) ভারতের বিরুদ্ধে চিনা ফৌজের যাবতীয় আগ্রাসনের নেপথ্যে তিনিই ছিলেন মূল মস্তিষ্ক। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট দাবি করেছিল, গলওয়ানে ভারতীয় সেনার ওপর হামলা চালিয়ে ভারতকে ‘শিক্ষা’ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁরই। ভারতের সেই অন্যতম প্রধান শত্রু, চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (PLA)-র প্রাক্তন জেনারেল ঝাও জংকি-রই এবার ডানা ছাঁটল বেজিং। শি জিনপিংয়ের নির্দেশে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক উপদেষ্টা মণ্ডলীর সমস্ত পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কী পদ খোয়ালেন ঝাও?
চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিনহুয়া জানিয়েছে, চাইনিজ পিপলস পলিটিকাল কনসালটেটিভ কনফারেন্স (CPPCC)-এর ১৪তম ন্যাশনাল কমিটির স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে অপসারণ করা হয়েছে ঝাও জংকি-কে। পাশাপাশি, জাতিগত ও ধর্মীয় বিষয়ক কমিটির উপ-পরিচালকের পদ এবং তাঁর সিপিপিসিসি-র সদস্যপদও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও চিনের কমিউনিস্ট পার্টির (CCP) মুখপত্রে এই অপসারণের কোনও নির্দিষ্ট কারণ জানানো হয়নি বা তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনও তদন্ত চলছে কি না, তা-ও খোলসা করা হয়নি।
ভারতের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের নকশা
তিব্বত এবং শিনজিয়াং প্রদেশ-সহ ভারতের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকার নিয়ন্ত্রণ থাকে চিনা ফৌজের ‘ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কম্যান্ড’-এর হাতে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই কম্যান্ডের প্রথম কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব নেন ঝাও। তাঁর আমলেই ২০১৭ সালে ডোকলামে ৭২ দিন ধরে ভারত ও চিনের সেনার মধ্যে অচলাবস্থা চলে।
এরপর ২০২০ সালের মে মাসে পূর্ব লাদাখে সেনা মোতায়েন শুরু করে চিন। ওই বছর ১৫ জুন গলওয়ান উপত্যকায় ভারতীয় সেনার ওপর পাথর, লোহার রড ও কাঁটা দেওয়া লাঠি নিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায় চিনা ফৌজ। সেই সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় জওয়ান শহিদ হন। বেজিং মাত্র ৪ জন চিনা সেনার মৃত্যুর কথা স্বীকার করলেও, আন্তর্জাতিক তদন্তে উঠে আসে অন্তত ৩৮ জন চিনা সেনার মৃত্যুর খবর। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের কাছে চিন যে দুর্বল নয়, তা প্রমাণ করতেই ঝাও জংকি এই হামলার অনুমোদন দিয়েছিলেন। ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অবসরের বয়সে পৌঁছনোর পর তাঁকে ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের প্রধান পদ থেকে সরানো হয়।
জিনপিংয়ের মেগা ‘পার্জ’ বা শুদ্ধিকরণ
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝাও জংকি-র এই পতন আসলে চিনা সেনার অন্দরে শি জিনপিংয়ের চলা মেগা ‘পার্জ’ বা শুদ্ধিকরণ অভিযানেরই অংশ। সম্প্রতি শৃঙ্খলা ও আইনভঙ্গের অভিযোগে চিনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশন থেকে আরও দুই শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউক্সিয়া এবং লিউ জেনলি-কেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ২০১২ সালে শুরু হওয়া জিনপিংয়ের এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে ইতিমধ্যেই শতাধিক শীর্ষ সামরিক আধিকারিক অপসারিত বা নিখোঁজ হয়েছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত আমেরিকান থিংক ট্যাঙ্ক ‘সিএসআইএস’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, চিনের সামরিক নেতৃত্বের প্রায় ৫২ শতাংশ পদই জিনপিংয়ের এই শুদ্ধিকরণ অভিযানের ধাক্কায় প্রভাবিত হয়েছে।
মৃতদের ৯ লাখ, ক্ষতিগ্রস্তদের ৩০ হাজার! সবং পরিদর্শনে গিয়ে আর কী ঘোষণা শুভেন্দুর?
জোরকদমে দল গঠন! ইমামির বিদায়ের পর ইস্টবেঙ্গলের ভরসা জুপিটার,
