পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘ মোতায়েনে চাপে মার্কিন নাবিকরা, আসছে নতুন বিমানবাহী রণতরী

পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন নিয়ে নাবিকদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই নতুন…

us-aircraft-carrier-middle-east-deployment-sailor-stress-george-washington

পশ্চিম এশিয়ায় মোতায়েন থাকা মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর দীর্ঘ সময়ের মোতায়েন নিয়ে নাবিকদের মানসিক চাপ ও জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যেই নতুন একটি বিমানবাহী রণতরী ওই অঞ্চলে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে (George Washington) লিংকনের পরিবর্তে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

Advertisements

মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, জর্জ ওয়াশিংটন সম্প্রতি ভিয়েতনামের দা নাং বন্দর ছেড়েছে। এরপর সেটি সিঙ্গাপুর প্রণালী এবং মালাক্কা প্রণালী অতিক্রম করে ভারত মহাসাগরের দিকে এগিয়েছে। মার্কিন আধিকারিকদের উদ্ধৃত করে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এই বিমানবাহী রণতরী বদল আগে থেকেই পরিকল্পিত মোতায়েনের অংশ। লিংকনের পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি উদ্বেগের সরাসরি প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

   

তবে লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন ঘিরে নাবিকদের পরিবার এবং আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। প্রায় ৫,০০০ নাবিক ও মেরিন নিয়ে লিংকন গত ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। প্রথমে এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েনের পরিকল্পনা ছিল। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিমানবাহী রণতরীটিকে পশ্চিম এশিয়ার দিকে পাঠানো হয়।

২০০ দিনেরও বেশি সময় বন্দরে না ঢোকার অভিযোগ

আইনপ্রণেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, লিংকন টানা ২০০ দিনেরও বেশি সময় কোনও বন্দরে না ঢুকে সমুদ্রে রয়েছে। মোট মোতায়েনের সময়ও ২৫০ দিনের বেশি হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকার ফলে নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি এবং মানসিক চাপ তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisements

নাবিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে আত্মহত্যার চিন্তা এবং কয়েকজন নাবিকের জাহাজ থেকে সমুদ্রে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। এমনও অভিযোগ রয়েছে যে অন্তত একজন নাবিককে অন্য এক সহকর্মী জাহাজের বাইরে চলে যাওয়া থেকে আটকান।

সান দিয়েগোতে প্রায় ২০০ জন নাবিকের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি উত্তেজনাপূর্ণ বৈঠকও হয়। সেখানে পরিবারের সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও এবং শীর্ষ সামরিক আধিকারিকদের কাছে দীর্ঘ মোতায়েন এবং নাবিকদের দেশে ফেরার সময় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ

শুধু মানসিক চাপ নয়, লিংকনে দৈনন্দিন জীবনযাত্রার পরিস্থিতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থাল জানিয়েছেন, তিনি প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি, পানীয় জলের সমস্যা, প্লাম্বিং সংক্রান্ত ত্রুটি, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি এবং ডাক পরিষেবায় বড় ধরনের সমস্যার কথা শুনেছেন। পরিবারগুলির অভিযোগের মধ্যে রয়েছে জাহাজে ছত্রাক বা মোল্ড, নষ্ট শৌচাগার, দীর্ঘ সময় গরম জলের অভাব এবং টয়লেট্রিজ ও খাবারের ঘাটতি।

অভিযোগ অস্বীকার মার্কিন নৌবাহিনীর

তবে মার্কিন নৌবাহিনী লিংকনে মানসিক স্বাস্থ্য সংকট আরও খারাপ হয়েছে এমন দাবি খারিজ করেছে। নৌবাহিনীর বক্তব্য, জাহাজটিতে আত্মহত্যার চিন্তা বা আত্মহত্যার চেষ্টার রিপোর্টে কোনও বৃদ্ধি তারা শনাক্ত করেনি। নাবিকদের কাউন্সেলর ও চ্যাপলিনদের সাহায্য পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। নৌবাহিনী আরও জানিয়েছে, জাহাজে পরিষ্কার পানীয় জল এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থাও রয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও জাহাজের খারাপ পরিস্থিতি সংক্রান্ত রিপোর্টকে “সম্পূর্ণ ভুলভাবে উপস্থাপিত” বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। যদিও নৌবাহিনী স্বীকার করেছে যে যুদ্ধের কারণে পশ্চিম এশিয়ায় প্রচলিত সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে খাবার, স্বাস্থ্যবিধির প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং ডাক পৌঁছতে দেরি বা ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এদিকে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন তার স্ট্রাইক গ্রুপ নিয়ে পশ্চিম এশিয়ার দিকে এগিয়ে চলেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বড় নৌবাহিনী উপস্থিতি বজায় রাখার ক্ষেত্রেও নতুন বিমানবাহী রণতরীটির মোতায়েন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

Advertisements