কাবুল: পাকিস্তান তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (TTP) ইসলামাবাদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনটির একজন সিনিয়র নেতা মুফতি গাফরান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, তাঁদের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামো আফগানিস্তানে নয়, পাকিস্তানের ভেতরেই অবস্থিত। তিনি দাবি করেছেন, পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনী কোনো কংক্রিট প্রমাণ দিতে পারেনি যে টিটিপি যোদ্ধারা আফগান ভূখণ্ড থেকে এসে হামলা চালাচ্ছে।
গাফরান পাশ্তো ভাষায় দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, সংগঠনটির কার্যক্রম পাকিস্তানের অন্তত ৩৯টি জেলায় বিস্তৃত। এর মধ্যে মাত্র কয়েকটি আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তের কাছাকাছি। পাঞ্জাব, সিন্ধু, বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ার অনেক এলাকা সীমান্ত থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে। তিনি হাঙ্গু এলাকার সাম্প্রতিক সংঘাতের উদাহরণ দিয়ে বলেন, সেখানে টিটিপির অভিযানে পাকিস্তানি সেনাদের হতাহত হয়েছে এবং ওই এলাকা আফগানিস্তানের সঙ্গে সংলগ্ন নয়।
আরও দেখুনঃ মোদী সফরে ফের সাফল্য! আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষর হল ভারত-নিউজিল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে টিটিপি (TTP)আফগানিস্তানে আশ্রয় নিয়ে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা ও সমর্থন দিচ্ছে। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, আফগান ভূখণ্ড থেকেই অনেক হামলা পরিচালিত হয়। কিন্তু টিটিপি নেতৃত্ব এই অভিযোগকে অস্বীকার করে বলছে, তাদের মূল ভিত্তি পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই। তাঁদের মতে, পাকিস্তান সরকার নিজের ব্যর্থতাকে ঢাকতে আফগানিস্তানকে দোষারোপ করছে।
গাফরান আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তিনি ভারতের সঙ্গে টিটিপির কোনো সম্পর্ক আছে বলে যে অভিযোগ ওঠে, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের অভিযোগ পাকিস্তানের পুরনো বয়ান মাত্র, যা বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। তিনি বলেন, সংগঠনটির লক্ষ্য ও কার্যক্রম সম্পূর্ণ নিজস্ব এবং কোনো বিদেশি শক্তির নির্দেশে পরিচালিত নয়।এই প্রত্যাখ্যান এমন সময়ে এসেছে যখন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অভিযোগ ও সামরিক পদক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। পাকিস্তান বারবার দাবি করেছে যে আফগান তালেবান প্রশাসন টিটিপিকে (TTP)নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বা অনিচ্ছুক। অন্যদিকে আফগান তালেবানও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা পাকিস্তানকেই সমাধান করতে হবে।সীমান্ত এলাকার সাধারণ মানুষ এই উত্তেজনার শিকার হচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতা, হামলা ও পাল্টা পদক্ষেপের মধ্যে তাঁদের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি ও দৈনন্দিন চলাচল প্রভাবিত হচ্ছে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগ মাঝে মাঝে নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধান এখনও দূরে।টিটিপির (TTP)এই বক্তব্য পাকিস্তানের নিরাপত্তা নীতিকে নতুন করে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। যদি সংগঠনটির মূল কাঠামো সত্যিই পাকিস্তানের ভেতরে থাকে, তাহলে শুধু আফগানিস্তানের ওপর দোষ চাপিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলে অনেকে মনে করছেন। অভ্যন্তরীণ শাসন, উপজাতীয় এলাকার নীতি ও সামাজিক অসন্তোষ মোকাবিলার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে ভারতের সঙ্গে সংযোগের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করাও তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তান প্রায়ই প্রতিবেশী দেশকে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করে। টিটিপি নেতৃত্ব সেই বয়ানকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে। এতে আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।
