ইরান-আমেরিকা যুদ্ধে এবার ইতি? মোজতবা খামেনেইর সঙ্গে সরাসরি ‘ডিল’ করছেন ট্রাম্প

কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনটাই ইঙ্গিত মিলছে। আল-অ্যারাবিয়া এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি…

Trump Iran talks deal

কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে কি তবে শান্তির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে অন্তত তেমনটাই ইঙ্গিত মিলছে। আল-অ্যারাবিয়া এবং ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা করতে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সম্মত হয়েছেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর এটিই সবথেকে বড় কূটনৈতিক মোড় বলে মনে করা হচ্ছে।

Advertisements

আলোচনার টেবিলে ট্রাম্পের ‘ভিক্টরি টিম’

সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। এই আলোচনায় ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ এবং তাঁর জামাতা তথা ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার সরাসরি যুক্ত রয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, আলোচনার মাধ্যমে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বড় বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে। মোজতবা খামেনেইর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এমন একজনের সঙ্গে আলোচনা করছি যাকে আমি সবথেকে শ্রদ্ধেয় নেতা বলে মনে করি।”

   

৫ দিনের ‘ডেডলাইন’ ও হামলা স্থগিত Trump Iran talks deal

ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং জ্বালানি পরিকাঠামোয় হামলার যে হুঁশিয়ারি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, তা আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী ৫ দিন আলোচনার জন্য একটি জানালা খোলা রাখা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমরা ৫ দিন সময় দিচ্ছি, দেখা যাক কী হয়। আমার মনে হয় এই সময়ের শেষে সবার জন্য একটি খুব ভালো চুক্তি হতে পারে।”

উল্লেখ্য, এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়া হবে। পালটা ইরানও হুমকি দিয়েছিল যে আমেরিকা বা ইসরায়েল হামলা করলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হামলা চালানো হবে।

Advertisements

হরমুজ প্রণালী ও বিশ্ব অর্থনীতি

ইরানের হামলায় বর্তমানে বিশ্ব তেলের বাজারের অন্যতম প্রধান রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ কার্যত বন্ধ। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছেছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আলোচনা সফল হলে খুব দ্রুত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে এবং সম্ভবত এটি ‘যৌথ নিয়ন্ত্রণে’ থাকবে।

ধোঁয়াশা ও অনিশ্চয়তা

ট্রাম্প এবং পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম আলোচনার কথা বললেও, ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সি কিন্তু অন্য কথা বলছে। তাদের দাবি, আমেরিকার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো যোগাযোগই হয়নি। ফলে এই আলোচনা সত্যিই ফলপ্রসূ হবে নাকি এটি ট্রাম্পের কোনো রণকৌশল, তা নিয়ে ধন্দ কাটেনি।

এক নজরে ইরান-মার্কিন যুদ্ধ:

শুরু: ২৮ ফেব্রুয়ারি (আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা)।

ক্ষয়ক্ষতি: রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ২,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

প্রভাব: বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও বিদ্যুৎ সংকটের আশঙ্কা।

আপাতত ৫ দিনের এই যুদ্ধবিরতি বা আলোচনার সময়সীমার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। যদি ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেইর মধ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সই হয়, তবে তা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এক বিশাল স্বস্তি বয়ে আনবে।

Advertisements