পাকিস্তানে শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির ধ্বংস! কড়া নিন্দা ভারতের, ‘সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা কোথায়?’

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার এবং তাঁদের ধর্মস্থান ধ্বংসের অভিযোগ নতুন নয়। এবার সে দেশের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তীব্র…

নয়াদিল্লি: পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার এবং তাঁদের ধর্মস্থান ধ্বংসের অভিযোগ নতুন নয়। এবার সে দেশের পাঞ্জাব প্রদেশে একটি শতাব্দীপ্রাচীন হিন্দু মন্দির গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল ভারত। বুধবার নয়াদিল্লির তরফে এই ঘটনাকে সংখ্যালঘুদের উপাসনালয়ের ওপর ‘চরম নিন্দনীয় আঘাত’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে মন্দির রক্ষায় পাক প্রশাসনের ‘উদাসীনতা ও ব্যর্থতা’ নিয়েও সরাসরি তোপ দেগেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক।

Advertisements

কী জানিয়েছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক?

বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নারোয়ালের ওই মন্দির রক্ষায় কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই ধরনের ঘটনা বারবার প্রমাণ করে যে পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় কতটা বিপন্ন এবং তাঁদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় কীভাবে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। এই ঘটনার স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে নয়াদিল্লি। একইসঙ্গে, অবিলম্বে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পাকিস্তান সরকারকে তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব পালনের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ভারত।

   

কীভাবে ধ্বংস হলো মন্দির?

লাহোর থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে নারোয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে প্রায় ১,০০০ বর্গমিটার জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো এই হিন্দু মন্দিরটি। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংখ্যালঘু সংগঠনগুলির অভিযোগ, গত ২১ অগস্ট একদল ধর্মীয় কট্টরপন্থী মন্দিরটি গুঁড়িয়ে দেয়। উদ্দেশ্য ছিল, সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার সঙ্গে ওই জমিটি জুড়ে নেওয়া।

পাকিস্তান মসিহা মিল্লাত পার্টি (PMMP)-র নেতা পারভেজ সাহোত্রা অভিযোগ করেছেন, নিষিদ্ধ কট্টরপন্থী ইসলামিক রাজনৈতিক দল ‘তেহরিক-ই-লাব্বাইক পাকিস্তান’ (TLP)-এর সদস্যরাই এই মন্দির ধ্বংসের নেপথ্যে রয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা রতন লাল এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে অবিলম্বে মন্দিরটি পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (ETPB) মন্দিরটি রক্ষা করতে বা জবরদখলকারীদের সরাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে।

Advertisements

পাক প্রশাসনের সাফাই

যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সরকার। তাদের দাবি, মন্দিরটি কেউ গুঁড়িয়ে দেয়নি। প্রবল বৃষ্টির কারণেই সেটি ভেঙে পড়েছে। সে দেশের সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী সর্দার রমেশ সিং অরোরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করার পর জানান, ভারী বৃষ্টির কারণে মন্দিরের একটি অংশ ধসে গিয়েছে এবং সরকার তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানে সংখ্যালঘু ধর্মস্থান ধ্বংসের ঘটনা এই প্রথম নয়। গত জুলাই মাসেই ফারুকাবাদে শ্রী গুরু সিং সভা সাহিব নামের ১২৫ বছরের পুরোনো একটি গুরুদ্বার গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। সেবারও ঘটনার তীব্র নিন্দা করে পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে সরব হয়েছিল ভারত।

বিপদে পাশে দাঁড়ানোয় ভারত ও চিনকে ধন্যবাদ নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

মাঝরাতে দুই জাহাজের ভয়ংকর সংঘর্ষ! তুরস্কে নিখোঁজ ১০ নাবিক

 

Advertisements