ভারতীয় বায়ুসেনার রাফাল ও সুখোই বনাম এফ-১৬ ও জে-১০সি, কোনটি বেশি শক্তিশালী?

IAF vs PAF: পাকিস্তান বিমান বাহিনী আজ ‘বায়ুসেনা দিবস’ পালন করছে। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের দীর্ঘ ঐতিহ্যের…

IAF

IAF vs PAF: পাকিস্তান বিমান বাহিনী আজ ‘বায়ুসেনা দিবস’ পালন করছে। এই উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর (পিএএফ) পেশাদারিত্ব ও আত্মত্যাগের দীর্ঘ ঐতিহ্যের প্রশংসা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, সংঘাতের সময় পাকিস্তানের আকাশসীমা রক্ষার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই বাহিনী বারবার নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েছে। শাহবাজ শরিফ বলেন, গত কয়েক দশক ধরে পিএএফ আকাশযুদ্ধে পেশাদার দক্ষতা, নৈপুণ্য ও আধিপত্যের পরিচয় দিয়ে আসছে।

Advertisements

ভারতীয় বিমান বাহিনীর তুলনায় পাকিস্তানের অবস্থান কেমন?
শাহবাজ শরিফ নিজের বিমান বাহিনীর ভূয়সী প্রশংসা করলেও, শক্তি ও সক্ষমতার দিক থেকে পাকিস্তান বিমান বাহিনী ভারতীয় বিমান বাহিনীর চেয়ে এখনও অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। তবে একথাও সত্য যে, পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বহরে সবসময়ই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ছিল—প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া বিমান এবং বর্তমানে চিনের কাছ থেকে সংগৃহীত বিমান। বৈশ্বিক র্যা ঙ্কিং বা তালিকায় ভারতীয় বিমান বাহিনী চতুর্থ স্থানে রয়েছে, যেখানে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর অবস্থান ১৬তম।

   

‘গ্লোবাল মিলিটারি অ্যানালিসিস’-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় বিমানবাহিনী (IAF) বিশ্বব্যাপী চতুর্থ স্থানে রয়েছে, যেখানে পাকিস্তান বিমানবাহিনী (PAF) ১৬তম অবস্থানে রয়েছে। সামরিক বিমানের মোট সংখ্যা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সক্ষমতার দিক থেকে পাকিস্তানের তুলনায় ভারত উল্লেখযোগ্যভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

ভারত বনাম পাকিস্তান: বিমান বাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা
ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান যুদ্ধবিমান বহরের মেরুদণ্ড হলো ‘সু-৩০ এমকেআই ফ্ল্যাঙ্কার-সি’ (Su-30MKI Flanker-C) যুদ্ধবিমান, যার সংখ্যা প্রায় ২৬০ থেকে ২৮০টি। এছাড়া ভারতের কাছে রাফাল (Rafale), মিরাজ-২০০০ (Mirage-2000) ও মিগ-২৯ (MiG-29)-এর মতো অত্যন্ত উন্নত ৪.৫-প্রজন্মের যুদ্ধবিমান এবং নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘তেজস’ (Tejas) বিমানও রয়েছে।

Advertisements

পাকিস্তান বিমান বাহিনীর মূল বহরটি মূলত চিনা সহযোগিতায় তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) বিমান (প্রায় ১৫৬টি) নিয়ে গঠিত। এছাড়া পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৬ (F-16) এবং চীনের জে-১০সি (J-10C) জেটের ওপরও নির্ভর করে।

পাকিস্তানের ৬২টি বিমানের তুলনায় ভারতের রয়েছে ৩২৫টি পরিবহন বিমান—যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সি-১৭ গ্লোবমাস্টার ও সি-১৩০জে সুপার হারকিউলিস, যা সীমান্তে দ্রুত সৈন্য ও রসদ পৌঁছে দিতে সক্ষম।

ভারতের ৭৮ বিলিয়ন ডলারের মোট প্রতিরক্ষা বাজেট পাকিস্তানের ৯.৩ বিলিয়ন ডলারের বাজেটের তুলনায় আট গুণ বেশি। এর ফলে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং অস্ত্রশস্ত্রের সরবরাহ বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারত এক অভূতপূর্ব সক্ষমতা অর্জন করেছে।

বৈশ্বিক র্যা ঙ্কিংয়ে সক্ষমতার বিচারে ভারতীয় বিমানবাহিনী বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিমানবাহিনীগুলোর মধ্যে স্থান করে নিয়েছে, যেখানে পাকিস্তান বিমানবাহিনীকে একটি আঞ্চলিক শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। তাছাড়া, পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো এর কৌশলগত গভীরতার (strategic depth) অভাব। ১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দশকে পাকিস্তান যেসব বিমানঘাঁটি নির্মাণ করেছিল, সেগুলোর নকশা করা হয়েছিল মূলত আকাশযুদ্ধে (ডগফাইট) লড়াইয়ের উপযোগী করে, কারণ সেই সময়ে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের (এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল) কোনো অস্তিত্ব ছিল না। ফলে পাকিস্তানের প্রায় সব বিমানঘাঁটিই ভারতীয় সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত ছিল এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় নিজেদের বিমানঘাঁটিগুলো রক্ষা করতে না পারার এটি ছিল অন্যতম প্রধান কারণ।

Advertisements