ওয়াশিংটন: হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির পদ ছাড়তে চলেছেন কারোলিন লেভিট (Karoline Leavitt)। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) জানিয়েছেন, অগস্টের শেষেই তিনি এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। দুই ছোট সন্তানের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লেভিট।
ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে লেভিটকে নিজের ‘অত্যন্ত বিশ্বস্ত সহযোগীদের একজন’ বলে উল্লেখ করেছেন। একইসঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্তকে তিনি বুঝতে এবং সম্মান করতে পারছেন বলেও জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের প্রশংসা, থাকছেন পরামর্শদাতা হিসেবে
কারোলিন লেভিটের বিদায়ের কথা জানিয়ে ট্রাম্প তাঁকে হোয়াইট হাউসের ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রেস সেক্রেটারি হিসেবেও প্রশংসা করেছেন। দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে হোয়াইট হাউস ছাড়লেও ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেভিট তাঁর ‘শীর্ষ বহিরাগত পরামর্শদাতাদের’ একজন হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান পার্টির ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
মাত্র ২৭ বছর বয়সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
কারোলিন লেভিটের বয়স এখন ২৭ বছর। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এই পদে বসার সময় তিনি ছিলেন হোয়াইট হাউসের ইতিহাসে সবচেয়ে কমবয়সি প্রেস সেক্রেটারি। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও তাঁর সঙ্গে কাজ করেছিলেন লেভিট।
প্রথম প্রশাসনে তিনি প্রেসিডেন্টের লেখক এবং সহকারী প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এলিস স্টেফানিকের যোগাযোগ বিষয়ক ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেন। কলেজ শেষ করার পর থেকেই রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন লেভিট।
‘সন্তানদের জন্য সেরা মা হতে পারছিলাম না’
নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লেভিট জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারির দায়িত্ব যেমন সম্মানের, তেমনই অত্যন্ত কঠিন।
তিনি বলেন, মা হওয়া এবং নতুন সন্তানের জন্মের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম কঠিন চাকরির দায়িত্ব সামলানো তাঁর জীবনের সবচেয়ে আনন্দদায়ক, আবার একইসঙ্গে সবচেয়ে কঠিন সময়গুলির একটি ছিল।
লেভিটের কথায়, এই দায়িত্বের জন্য যে ‘নিরবচ্ছিন্ন সময়, শক্তি এবং মনোযোগ’ প্রয়োজন, তা দেওয়ার পাশাপাশি নিজের দুই ছোট সন্তানের জন্য সেরা মা হয়ে ওঠা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ছেড়ে জীবনের নতুন অধ্যায়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
ট্রাম্পের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ থাকছে
হোয়াইট হাউস ছাড়লেও ট্রাম্পের রাজনৈতিক শিবির থেকে পুরোপুরি দূরে যাচ্ছেন না লেভিট। তিনিও নিশ্চিত করেছেন যে, ট্রাম্প তাঁকে শীর্ষ বহিরাগত পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে বলেছেন। লেভিট জানিয়েছেন, তিনি ম্যাগা এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে সরব থাকবেন।
ফলে তাঁর পদত্যাগকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিচ্ছেদ হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং হোয়াইট হাউসের দৈনন্দিন দায়িত্ব থেকে সরে গিয়ে আরও নমনীয় ভূমিকায় ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি হয়েছে।
২০২৬-এর মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে পরিবর্তন
কারোলিন লেভিটের বিদায় এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আমেরিকার রাজনীতিতে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রচারে লেভিটের অভিজ্ঞতা এবং যোগাযোগ দক্ষতা কাজে লাগতে পারে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে গত দেড় বছরে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির পক্ষে নিয়মিত সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রেখেছেন এবং প্রশাসনের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। এখন তাঁর জায়গায় কে হোয়াইট হাউসের পরবর্তী প্রেস সেক্রেটারি হবেন, তা এখনও জানানো হয়নি।
কারোলিন লেভিটের ক্ষেত্রে তাই বিদায়টি একইসঙ্গে ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক। পরিবারকে বেশি সময় দেওয়ার জন্য হোয়াইট হাউসের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ছাড়ছেন তিনি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন এবং রিপাবলিকান রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হচ্ছে না। বরং ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের শীর্ষ বহিরাগত পরামর্শদাতা হিসেবে নতুন ভূমিকায় তাঁকে দেখা যেতে পারে।
